যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে সুবিধা পাবে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া চুক্তি থেকে রপ্তানি বাণিজ্যে বাংলাদেশ লাভবান হবে বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা। রপ্তানিকারক-উদ্যোক্তাদের কয়েকটি সংগঠন চুক্তির বিষয়ে তাদের সন্তোষ প্রকাশ করে স্বাগত জানিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। চুক্তি নিয়ে স্বাগত জানিয়েছে তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন-বিজিএমইএ। সংগঠনের পক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন তুলা গুণগতভাবে উন্নত ও ব্যয়বহুল হওয়ায় স্থানীয় স্পিনাররা যদি সুতার প্রতিযোগিতামূলক দাম নিশ্চিত করতে পারেন, তবে রপ্তানি বাড়ার বিশাল সুযোগ তৈরি হবে।

এতে আরও বলা হয়, চুক্তির চূড়ান্ত শর্ত সম্পর্কে বিজিএমইএ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ অবহিত নয়। সরকারের কাছ থেকে বিস্তারিত নথিপত্র পাওয়ার পর বিজিএমইএ দ্রুত সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসবে এবং ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস ও ইউএসটিআরের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করবে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে উৎপাদিত পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো পাল্টা শুল্ক গুণতে হবে না। আমরা মনে করি, এর ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের প্রবেশাধিকার আরও বাড়বে। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে মার্কিন কাঁচামাল ব্যবহারের মূল্যায়ন ও ট্রেসেবিলিটি প্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন দিগন্তের সূচনা হিসেবে দেখছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম)। সংগঠনটির মতে, এই চুক্তি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অ্যামচ্যাম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ এক বিবৃতিতে জানান, এই চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট কিছু রপ্তানি পণ্যের ওপর ১৯ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচিত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধাজনক বিধানও যুক্ত করা হয়েছে। অ্যামচ্যাম মনে করে, বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে এই চুক্তি বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে। তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রধান রপ্তানি গন্তব্য হওয়ায়, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য বাজারে টিকে থাকা এবং প্রতিযোগিতা করা সহজ হবে।

-সাইমুন