প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ: নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে টি আই বি’র বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানিয়েছেন, নির্বাচন পূর্ববর্তী সময় থেকে শুরু করে ভোটের দিন পর্যন্ত নারী, আদিবাসী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী এবং লিঙ্গ বৈচিত্র্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠী নানা ঝুঁকি ও ভীতির মধ্যে রয়েছে।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনের পর নির্বাচন কমিশনে সংশ্লিষ্ট বিশেষ সেলের সঙ্গে বৈঠক করে টিআইবি ও অংশীজনরা। বৈঠকে মাঠপর্যায়ে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশের নির্বাচন ও রাজনীতিতে অর্থ, পেশিশক্তি, ধর্মীয় প্রভাব, পুরুষতান্ত্রিকতা ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার আধিপত্যের কারণে দুর্বল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ভোটাররা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও বাস্তবে নিরাপত্তাহীনতা, ভয়ভীতি ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন।

প্রতিবন্ধী ভোটারদের ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশগম্যতা (অ্যাক্সেসিবিলিটি) বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরা হয়। শারীরিক, দৃষ্টি ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য উপযোগী অবকাঠামো ও সহায়ক ব্যবস্থা না থাকলে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধাগ্রস্ত হবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সেলের সঙ্গে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদানের একটি সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়। টিআইবি জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ে কোনো ঝুঁকি বা প্রতিকূলতার তথ্য পেলে তা কমিশনকে জানানো হবে এবং কমিশন সেগুলোর ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে এমন আশ্বাস পাওয়া গেছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও জানান, নির্বাচন কমিশন এতদিন সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রাধান্য দিলেও প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীভিত্তিক বিশেষ পরিকল্পনা পর্যাপ্ত ছিল না। সাম্প্রতিক আলোচনার পর কমিশন এ বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ভোটকেন্দ্রের চারশ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গেও আপত্তি জানায় টিআইবি। এ সিদ্ধান্তকে “মাথাব্যথার কারণে মাথা কেটে ফেলার মতো” আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। পরে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি ছিল এবং সংশোধন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সহিংসতার সামগ্রিক প্রভাব নিয়ে সাধারণ আলোচনা হলেও এদিনের বৈঠকের মূল ফোকাস ছিল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং তাদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা।

গণমাধ্যমের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে টিআইবি বলেছে, নির্বাচনে কে জিতবে বা হারবে তার বাইরে প্রান্তিক মানুষের ভোটাধিকার, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণের বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা জরুরি।

সংস্থাটি আশা করছে, নির্বাচন কমিশন ও মাঠ প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপে সকল নাগরিকের জন্য সমান ও নিরাপদ ভোটাধিকার চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।

_এজাজ আহম্মেদ