ভোলা-৩ (তজুমদ্দিন-লালমোহন) আসনে নির্বাচনী মাঠ উত্তপ্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোলা-৩ (তজুমদ্দিন–লালমোহন) আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দীর্ঘদিন পর এ এলাকায় আবারও প্রাণ ফিরেছে ভোটের রাজনীতিতে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন দল ও জোটের কর্মী-সমর্থকদের প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে গ্রাম ও শহরের অলিগলি।

ভোলা-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫০ জন। পুরুষ ভোটার: ২ লাখ ৪৯৭ জন নারী ভোটার: ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫০ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার: ৩ জন। এই আসনে মূলত দুটি শিবিরের মধ্যে জমে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একদিকে রয়েছে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ বীর বিক্রম। অন্যদিকে রয়েছেন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থী, জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত নবীন নেতা মুহা. নিজামুল হক নাঈম যিনি ফুলকপি প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

ভোলা-৩ আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই মেজর হাফিজ উদ্দিন আহম্মদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তিনি এ আসন থেকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং দুইবার মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে এবারও তাঁকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই দেখছেন ভোটাররা।
প্রচারণায় অংশ নিয়ে মেজর হাফিজ নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ শেষ করা এবং শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। পাশাপাশি তুলে ধরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি। তিনি বলেন, “জনগণ আমাকে আবার নির্বাচিত করলে তজুমদ্দিন ও লালমোহনকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত করে একটি আদর্শ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবো।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে মন্ত্রী থাকাকালে তজুমদ্দিনে ভূমিহীন ১০ হাজার পরিবারকে বিনামূল্যে খাসজমি বরাদ্দ দিয়েছেন। নির্বাচিত হলে ভবিষ্যতেও চরাঞ্চলের ভূমিহীনদের জন্য জমি বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করবেন।

অন্যদিকে নবীন প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম ছাত্রশিবিরের রাজনীতি থেকে উঠে এসে বর্তমানে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি প্রচারণায় চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, সুশাসন এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করছেন।

তিনি বলেন, “ভোটাররা আমাকে নির্বাচিত করলে লালমোহন ও তজুমদ্দিনকে একটি সন্ত্রাসমুক্ত, নিরাপদ ও উন্নত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলবো।” জামায়াতের নেতাকর্মীরাও তাঁর পক্ষে জোরালোভাবে মাঠে কাজ করছেন।
এই আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী থাকলেও সাধারণ ভোটারদের ধারণা প্রধান লড়াই হবে মেজর হাফিজ উদ্দিন ও নিজামুল হক নাঈমের মধ্যে। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মোসলেহ উদ্দিন (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাওলানা মো. কামাল উদ্দিন (লাঙ্গল), গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আবু তৈয়ব (ট্রাক)।

এছাড়া আপিলের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট রহমত উল্লাহ সেলিম। তবে এদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সীমিত পরিসরে প্রচারণা চালালেও অন্যদের তৎপরতা তুলনামূলক কম। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি নিয়ে সবাই আশাবাদী। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন পর এমন প্রাণবন্ত নির্বাচন দেখছেন তারা।

মোঃ বিল্লাল হোসেন জুয়েল, ভোলা