নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকবে ২৩ দেশ ও ৭ আন্তর্জাতিক সংস্থা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক পর্যবেক্ষক অংশ নিতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় গত ডিসেম্বরে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ৩০টি দেশের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ সাতটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানায়। এর মধ্যে গতকাল রোববার পর্যন্ত ২৩টি দেশ এবং সাতটি আন্তর্জাতিক সংস্থা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে বলে ঢাকাকে নিশ্চিত করেছে।

এবারের নির্বাচনে বিদেশি যেসব সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তারা সর্বোচ্চসংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৯০ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক স্বল্পমেয়াদে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে মাঠে কাজ শুরু করবেন। ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের সদস্য প্রায় ২০০ জন।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল রোববার পর্যন্ত ২৩টি দেশ এবং সাতটি আন্তর্জাতিক সংস্থার অন্তত ৩৬৪ জন প্রতিনিধি পর্যবেক্ষণে যুক্ত হবে বলে তারা নিশ্চিত করেছে।

গত মাসে ঢাকায় এক ব্রিফিংয়ে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস সাংবাদিকদের জানান, পূর্ণ সক্ষমতায় এই মিশনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক অন্তর্ভুক্ত থাকছেন। তিনি জানান, প্রতিনিধি দলে যুক্ত হবেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চসংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে ব্যাংককভিত্তিক সংগঠন এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন (আনফ্রেল)। সংস্থাটি ২৮ জন পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিক ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) ১৯ জন প্রতিনিধি বাংলাদেশে আসছেন। আর কমনওয়েলথের ১৩ পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন।

বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছয়জন পার্লামেন্ট সদস্যসহ ১০ সদস্যের প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে তুরস্ক। পাশাপাশি চীন, জাপান, ইরান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ ১৯ দেশের প্রতিনিধিত্ব থাকছে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে। এর পাশাপাশি ভারতসহ আরও চার দেশের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস বলেন, নির্বাচনের দুদিন পর ১৪ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। প্রায় দুই মাস পর একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

-সাইমুন