ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দিদের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মুক্তির আশ্বাস

ছবিঃ সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ ঘোষণা দিয়েছেন, দেশটির সব রাজনৈতিক বন্দিকে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মুক্তি দেওয়া হবে। শুক্রবার রাজধানী কারাকাসে রাজনৈতিক বন্দিদের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এই সময়সীমা নির্ধারণ করেন। খবর আলজাজিরার।

রদ্রিগেজ বলেন, “আগামী মঙ্গলবার থেকে সর্বোচ্চ শুক্রবারের মধ্যেই সবাই মুক্তি পাবে।” তিনি জানান, জাতীয় পরিষদে প্রস্তাবিত সাধারণ ক্ষমা আইন চূড়ান্তভাবে পাস হওয়ার দিনই বন্দিমুক্তি শুরু হবে। এই ঘোষণার একদিন আগেই ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদ সর্বসম্মতভাবে সাধারণ ক্ষমা বিলের প্রথম ধাপের অনুমোদন দেয়। আগামী মঙ্গলবার দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে রাজনৈতিক মতাদর্শ বা সরকারবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে আটক বা দণ্ডিত ব্যক্তিরা ক্ষমা পাবেন। তবে খুন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির মতো গুরুতর অপরাধ এই সাধারণ ক্ষমার আওতাভুক্ত হবে না। একই সঙ্গে এই আইন বিরোধী নেত্রী ও নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোসহ বেশ কয়েকজন নেতার ওপর আরোপিত নির্বাচনী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পথও খুলে দেবে।

দীর্ঘদিন ধরে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনে নির্বিচার গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সরকার ঘোষিত সংখ্যার তুলনায় প্রকৃত রাজনৈতিক বন্দির সংখ্যা অনেক কম মুক্তি পেয়েছে। সরকারের দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় ৯০০ রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থা ফোরো পেনাল জানিয়েছে, প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ৩৮৩ জন, এবং এখনো প্রায় ৬৮০ জন রাজনৈতিক কারণে কারাবন্দি রয়েছেন।

এদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করে বলেছে, সাধারণ ক্ষমা আইন স্বাগতযোগ্য হলেও অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি হবে না-এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। সংস্থাটি আরও জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তি পাওয়া অনেক বন্দিকে মুখে কুলুপ এঁটে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সাংবাদিক ও কর্মীরা এখনো হয়রানির শিকার হচ্ছেন। প্রসঙ্গত, গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিউইয়র্কে নেওয়ার সামরিক অভিযানের অনুমোদন দেন। এরপর থেকেই ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর মানবাধিকার ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ বেড়েছে। সরকার আরও জানিয়েছে, কুখ্যাত কারাগার এল হেলিকোইদে-যেটি নির্যাতনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত-বন্ধ করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

-বেলাল হোসেন