সিরিয়ার গোলান উপত্যকা থেকে অন্তত ২৫০টি ছাগল চুরির দায়ে নিজ দেশের সেনাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। অভিযোগ উঠেছে, সিরিয়ার খামারিদের মালিকানাধীন এসব ছাগল চুরি করে দখলকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল ও চ্যানেল-১২-এর প্রতিবেদনে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে গোলান ব্রিগেডের একদল সেনা সিরিয়ার গোলান উপত্যকায় টহল দেওয়ার সময় বিশাল একটি ছাগলের পাল মাঠে চড়তে দেখেন। এরপর তারা অন্তত ২৫০টি ছাগলকে একত্র করে ট্রাকে তুলে অধিকৃত পশ্চিম তীরে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই ট্রাক প্রস্তুত রাখা হয়েছিল এবং ছাগলগুলো স্থানীয় অবৈধ ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর গোলান উপত্যকার একটি বড় অংশ ইসরায়েলি সেনারা দখল করে নেয়। সেই সুযোগেই এই চুরির ঘটনা ঘটে। চুরির পরদিন সকালে সিরিয়ার কৃষকরা তাদের পালের অনেক ছাগল নিখোঁজ দেখেন এবং কিছু ছাগলকে বিচ্ছিন্নভাবে রাস্তার পাশে হাঁটাহাঁটি করতে দেখেন। এরপর তারা বিষয়টি সিরিয়ার সেনাবাহিনীকে অবহিত করলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে চুরির বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা এই অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত সেনাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে স্কোয়াড কমান্ডারকে সেনাবাহিনী থেকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানি কমান্ডারকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার করা হয়েছে। চুরিতে অংশ নেওয়া অন্যান্য সেনাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও প্রশাসনিক শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, চুরি হওয়া ২৫০টি ছাগলের মধ্যে ২০০টি এখনো ইসরায়েলের ভেতরেই রয়ে গেছে। বাকি ছাগলগুলো সিরিয়ার ভূখণ্ডে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী বর্তমানে নিখোঁজ ছাগলগুলোর খোঁজ চালাচ্ছে।
সূত্রঃ চ্যানেল-১২
-এম. এইচ. মামুন










