নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, খাগড়াছড়ি–২৯৭ আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা ততই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দীঘিনালা উপজেলায় দীর্ঘ সময় ধরে জনসংযোগ চালিয়ে মাঠের রাজনীতিতে নিজের সক্রিয় উপস্থিতি জানান দেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত টানা প্রায় সাড়ে নয় ঘণ্টা দীঘিনালার প্রতিটি ইউনিয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডে সমাবেশ ও পথসভা করেন তিনি। জনসংযোগকালে কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কৃষক, ব্যবসায়ী, তরুণ, নারী ও বয়স্ক ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।
সমাবেশগুলোতে উঠে আসে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা অভিযোগ বেকারত্ব, চাকরিতে ঘুষ, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, চিকিৎসা সংকট ও শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি। ওয়াদুদ ভূঁইয়া এসব অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তা সমাধানে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন-চাকরি যদি যোগ্যতার ভিত্তিতে না হয়, তাহলে রাষ্ট্রের ভিত কখনো শক্ত হয় না। আমরা ক্ষমতায় এলে মেধার বাইরে কোনো পরিচয় বা অর্থ চাকরির পথে বাধা বা সুবিধা হবে না।
বক্তব্যে তিনি অতীত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন-আমি দায়িত্বে থাকাকালে এই এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছি। মানুষ আজও সেই কাজের মূল্যায়ন করছে বলেই এত বাধা ও নির্যাতনের মধ্যেও বিএনপির পাশে আছে।
সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি আরও বলেন-দীর্ঘদিন ধরে আপনারা যে অবিচার সহ্য করেছেন, তার জবাব এবার ভোটের মাধ্যমে দিতে প্রস্তুত। মানুষের এই উপস্থিতি প্রমাণ করে ভয় নয়, পরিবর্তনের ভাষাই এখন বড়।
রাতের শেষ দিকের সমাবেশগুলোতেও মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, যা স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে নির্বাচনী মাঠে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও জনভিত্তির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।
দীঘিনালার রাজনৈতিক অঙ্গনে এদিনের গণসংযোগকে অনেকে দেখছেন ভোটের আগে জনমত যাচাই ও আস্থা পুনর্গঠনের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে।
মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি










