বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে একাদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় ও উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে তিনি শপথ নেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এর মাধ্যমেই দীর্ঘ ১৭ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবর্তন ঘটল।

সাধারণত বঙ্গভবনের দরবার হলে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রথা থাকলেও, এবার জনগণের কাছাকাছি থাকার অঙ্গীকার থেকে সংসদের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শপথ গ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন এবং রাষ্ট্রপতি তাদেরও শপথ পাঠ করান। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আজকের দিনটি ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত ঘটনাবহুল:

এমপিদের শপথ: সকাল ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান।

সংসদ নেতা নির্বাচন: বেলা ১২টায় সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়।

দপ্তর বণ্টন: জানা গেছে, আজ বিকেলের মধ্যেই নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এটি দেশের ইতিহাসে দলটির ষষ্ঠবারের মতো ক্ষমতায় আসা।

অন্যদিকে, ৬৮টি আসন নিয়ে সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সংসদীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান।

শপথ গ্রহণ পরবর্তী প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ভেঙে পড়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বিশেষ করে বিএনপির সংসদ সদস্যদের সরকারি প্লট ও শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বর্জনের ঘোষণাটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

-লামিয়া আক্তার