বজ্রপাত রুখতে ১ লক্ষ ২৪ হাজার তালগাছ রোপন ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষক খোরশেদ আলীর

বজ্রপাত থেকে মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রাখতে এক বিস্ময়কর নজির স্থাপন করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক মো: খোরশেদআলী। গত ২০ বছরে তিনি নিজের একক প্রচেষ্টায় রোপণ করেছেন ১ লক্ষ ২৪ হাজারেরও বেশি তালগাছ। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের পাহাড়ভাঙ্গা এলাকার এই কৃষকের এমন মহৎ উদ্যোগ এখন পুরো জেলায় এক সবুজ সম্পদে পরিণত হয়েছে।

যেসব পথে ছড়িয়ে আছে তার সবুজ বিপ্লব ২০০৪ সাল থেকে খোরশেদ আলী তালগাছ রোপণের এই দীর্ঘ যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে ঠাকুরগাঁওয়ের চিলারং ইউনিয়ন ও এর আশেপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তার লাগানো তালগাছগুলো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। উল্লেখযোগ্য সড়কগুলো হলো:​চিলারং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ফাড়াবাড়ি হাট পর্যন্ত।, চিলারং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে রুহিয়া সড়ক, চিলারং রেল ঘুন্টি থেকে রুহিয়া বাজার পর্যন্ত, চিলারং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে লাহিড়ী বাজার পর্যন্ত।

বজ্রপাত রোধে ‘প্রাকৃতিক ঢাল’ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, উঁচু তালগাছ বজ্রপাত সরাসরি শুষে নিয়ে মাটির নিচে পৌঁছে দেয়, যা মানুষের জানমালের জন্য রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। খোরশেদ আলীর এই উদ্যোগ কেবল বজ্রপাতই নয়, বরং মাটির ক্ষয়রোধ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া বাবুই পাখিসহ বিভিন্ন বিপন্ন পাখির প্রধান আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে এই তালগাছগুলো।

হুমকির মুখে ২০ বছরের পরিশ্রম দীর্ঘ দুই দশকের এই অক্লান্ত পরিশ্রম বর্তমানে নানা সংকটে জর্জরিত। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি কোনো রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারি না থাকায় স্থানীয় অসাধু চক্র সুযোগ বুঝে ছোট-বড় অনেক গাছ কেটে নষ্ট করে ফেলছে। ফলে বিশাল এই সবুজ সম্পদ দিনে দিনে সংকুচিত হয়ে আসছে।

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও স্বীকৃতির দাবি পরিবেশ ও মানুষের জীবন বাঁচাতে খোরশেদ আলীর এই নিঃস্বার্থ অবদানকে জাতীয় পর্যায়ে মূল্যায়নের দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী। খোরশেদ আলী নিজেও চান এই বনায়ন প্রকল্পের সরকারি দায়িত্ব ও সঠিক পরিচর্যা। তিনি বলেন, “আমি তো সারা জীবন থাকব না, কিন্তু এই গাছগুলো থেকে যাবে মানুষের উপকারে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই সম্পদগুলো রক্ষা পাবে।”

-মজিদ, ​ঠাকুরগাঁও