ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন ৩ হাজার ৬৪৭ জন কারাবন্দি। ভোট দেওয়ার জন্য মোট নিবন্ধন করেছিলেন ৫ হাজার ৯৬০ জন বন্দি ভোটার। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে কারা অধিদপ্তর এক খুদে বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম দিনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেন ১ হাজার ৫২১ জন কারাবন্দি। পরদিন ৪ ফেব্রুয়ারি ভোট দেন ৯৮৮ জন এবং ৫ ফেব্রুয়ারি ভোট দেন আরও ১ হাজার ১৩৮ জন বন্দি ভোটার।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কারাগারের অভ্যন্তরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবং নির্বাচন-সংক্রান্ত সব বিধিবিধান অনুসরণ করে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নিয়ম অনুযায়ী, নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীর পক্ষে কারাবন্দি ভোটাররা তাদের ভোট প্রদান করছেন।
কারা সূত্রে জানা গেছে, দেশের সব কারাগারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বন্দি ভোটার রয়েছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ)। সেখানে ৬০০ জনের বেশি কারাবন্দি ভোটার রয়েছেন।
কেরানীগঞ্জ বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি সাবেক মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাসহ মোট ২২ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
তাদের মধ্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু রয়েছেন। এ ছাড়া সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও সাবেক সচিবসহ অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গও ভোট দেন। ওই বিশেষ কারাগারে দুটি বুথের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালটে ভোট গ্রহণের আয়োজন করা হয়।
৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষ সকাল থেকে কারাগারে স্থাপিত বুথগুলোতে ভোট গ্রহণ শুরু করে। এদিন কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে সরাসরি ভোট গ্রহণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
পরিদর্শনকালে তিনি জানান, সারা দেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকা ৫ হাজার ৯৬০ জন বন্দি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
এর আগে ডাকযোগে খামযুক্ত পোস্টাল ব্যালট পেপার সংশ্লিষ্ট সব কারাগারে পৌঁছে দেওয়া হয়। বন্দিদের ভোট গ্রহণ কার্যক্রম ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও ৪ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি থাকায় সময়সীমা এক দিন বাড়িয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
-এজাজ আহম্মেদ










