ভয়াবহ সংকটের মাঝেও গাজা ছাড়তে নারাজ প্রবীণ ফিলিস্তিনিরা

ছবিঃ সংগৃহীত

গাজায় দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, অবরোধ ও মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও বহু প্রবীণ ফিলিস্তিনি তাদের মাতৃভূমি ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। সম্প্রতি দুই বছর পর আংশিকভাবে রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়া হলেও, প্রবীণদের একটি বড় অংশ এটিকে গাজার বাইরে যাওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন না। খবর আলজাজিরার।
৭৩ বছর বয়সী কেফায়া আল-আসসার উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকার বাসিন্দা। যুদ্ধের ফলে তার বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেলে তিনি বর্তমানে মধ্য গাজার নুসেইরাতের একটি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে আশ্রয় নিয়েছেন। উচ্চ রক্তচাপসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগলেও তিনি বিদেশে চিকিৎসা নিতে চান না। তার ভাষায়, “নিজ ভূমি ছেড়ে যাওয়া মানে ইতিহাসের ভুল আবার করা।’ অনেক প্রবীণ ফিলিস্তিনির জীবনে বাস্তুচ্যুতি নতুন নয়। ১৯৪৮ সালের নাকবার সময় যাদের পরিবার উৎখাত হয়েছিল, আজ তারা আবার একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি। ৮৫ বছর বয়সী নাজমিয়া রাদওয়ান বলেন, আজীবন যুদ্ধ ও উদ্বাস্তু জীবনের পরও তিনি গাজা ছাড়বেন না-ভিখারি হয়ে বাঁচলেও নয়।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হেল্পএইজ ইন্টারন্যাশনালের গবেষণায় দেখা গেছে, গাজার প্রবীণদের অধিকাংশই তাঁবুতে বাস করছেন, পর্যাপ্ত খাবার ও ওষুধ পাচ্ছেন না এবং মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে ভুগছেন। অনেকেই পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য নিজের খাবার ত্যাগ করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজায় বসবাস করে যাওয়া প্রবীণদের এই সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রতিরোধের প্রকাশ। তাদের বিশ্বাস, ভূমি ছেড়ে গেলে ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব ও ইতিহাস আরও বিপন্ন হবে।
-বেলাল হোসেন