হংকংয়ের প্রো-ডেমোক্রেসি মিডিয়া উদ্যোক্তা জিমি লাইয়ের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের মামলায় দেওয়া দোষী রায়ের পর তার সাজা ঘোষণা করা হবে আগামী সোমবার। হংকংয়ের বিচার বিভাগ শুক্রবার তাদের ওয়েবসাইটে জানায়, সোমবার সকালে সাজা ঘোষণার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। খবর আলজাজিরার।
৭৮ বছর বয়সী জিমি লাই এখন বন্ধ হয়ে যাওয়া জনপ্রিয় পত্রিকা অ্যাপল ডেইলির প্রতিষ্ঠাতা। গত ডিসেম্বরে তাকে বিদেশি শক্তির সঙ্গে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এই মামলা করা হয় বেইজিং প্রণীত হংকংয়ের কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায়, যা ২০১৯ সালের ব্যাপক গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের পর কার্যকর করা হয়। আদালত তাকে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক প্রকাশনার একটি অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত করেছে। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা হতে পারে।
২০২০ সাল থেকে জিমি লাই কারাবন্দি রয়েছেন। তিনি একজন ব্রিটিশ নাগরিক। তার মুক্তির দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ একাধিক পশ্চিমা দেশ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা সরব হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার প্রকাশ্যে তার মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন। গত জানুয়ারিতে চীন সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী স্টারমার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে জিমি লাইয়ের প্রসঙ্গ তোলেন, যদিও দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন বলে জানান তিনি। ট্রাম্পও জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে শি জিনপিংকে লাইয়ের মুক্তির অনুরোধ করেছিলেন।
ডিসেম্বরে দেওয়া ৮৫৬ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারকরা উল্লেখ করেন, জিমি লাই বহু বছর ধরে চীনের প্রতি ‘বিদ্বেষ ও ক্ষোভ’ পোষণ করতেন এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পতন কামনা করতেন। মামলায় প্রসিকিউশন অ্যাপল ডেইলিতে প্রকাশিত ১৬১টি প্রতিবেদনকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে, যেগুলোকে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক বলে চিহ্নিত করা হয়। তবে জিমি লাই বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি কখনোই বিদেশি সরকারের নীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেননি। তার দাবি, অ্যাপল ডেইলি হংকংবাসীর মূল মূল্যবোধ—আইনের শাসন, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা-প্রতিফলিত করেছে।
সোমবার তার সঙ্গে আরও আটজন সহআসামির সাজা ঘোষণা করা হবে, যাদের মধ্যে অ্যাপল ডেইলির ছয়জন সাবেক নির্বাহী রয়েছেন। লাই ছাড়া বাকি আসামিরা দোষ স্বীকার করেছেন এবং কেউ কেউ তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন, ফলে তাদের তুলনামূলক কম সাজা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এই মামলাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে বলেছে, এই রায় জাতীয় নিরাপত্তা আইন জারির পর হংকংয়ে গণতন্ত্র ও মৌলিক স্বাধীনতার অবক্ষয়ের প্রতীক। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একে হংকংয়ের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ‘মৃত্যুঘণ্টা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস মামলাটিকে ‘প্রহসন’ বলে মন্তব্য করেছে।
-বেলাল হোসেন










