চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন স্মৃতিবহ একটি নামফলক দীর্ঘদিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সে সময় তার নামসংবলিত একটি নামফলক স্থাপন করা হয়েছিল, যা প্রেসক্লাবের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে বিবেচিত।
একই সময়ে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে ইনডোর অডিটোরিয়াম ও মিনি স্টেডিয়ামেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এসে ইনডোর অডিটোরিয়াম ও মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং প্রেসক্লাবের জন্য অনুদান প্রদান করেন। সে সময় প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন নুরুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বি. এ. আজাদ ইসলামাবাদী।
অভিযোগ রয়েছে, হাসিনার শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে শহীদ জিয়ার নামসংবলিত ওই নামফলকটি প্রেসক্লাব থেকে অপসারণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে নামফলকটির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরে অনুসন্ধান চালিয়ে প্রেসক্লাবের গোডাউনে ময়লা-আবর্জনার স্তুপের মধ্য থেকে ঐতিহাসিক নামফলকটি উদ্ধার করা হয়।
প্রেসক্লাব সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উদ্ধারকৃত নামফলকটি যথাযথ ও সম্মানজনক স্থানে পুনরায় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে চট্টগ্রামের সাংবাদিক মহলে আলোচনা ও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
প্রসঙ্গত, শহীদ জিয়ার শাসনামলে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্যমন্ত্রীরা চট্টগ্রাম সফরে এলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতেন। এ ছাড়া ১৯৭৯ সালের প্রেসক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটি সাংবাদিকদের আবাসন সংকট নিরসনের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সার্কিট হাউসে সাক্ষাৎ করে সহযোগিতা কামনা করেন। সে সময় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, কোনো ক্লাবকে আবাসনের জন্য ভূমি বরাদ্দ দেওয়া যায় না। আপনারা চট্টগ্রামের সাংবাদিকরা মিলে একটি সমবায় হাউজিং সোসাইটি করেন। ওই সোসাইটিকে জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
দীর্ঘদিন পর নামফলক উদ্ধারের ঘটনাকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম










