সিলেটে এক দিনের ব্যবধানে দুই প্রবাসী ও এক শিক্ষার্থী খুনের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যুক্তরাজ্য প্রবাসী বোরহান উদ্দিন শফি হত্যাকাণ্ডের এখনও ক্লু মেলেনি। তাঁর সঙ্গে মোটরসাইকেলে থাকা এক যুবককে খোঁজ করছে বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা। তাঁর সন্ধান পাওয়া গেলে হত্যার জট খুলতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। অপর দুই হত্যাকাণ্ডে ছয়জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
সাম্প্রতিক এই তিনটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে আলোচিত যুক্তরাজ্য প্রবাসী বোরহান উদ্দিন শফি হত্যায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। দাফনে ব্যস্ত থাকায় তাঁর স্বজনরা আজকালের মধ্যে মামলা করতে পারে বলে জানিয়েছেন জকিগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানান, পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা ঘটনাটি তদন্ত করছে। প্রবাসীর সঙ্গে থাকা যুবককে পাওয়া গেলে রহস্য বেরিয়ে আসতে পারে।
দেশে ফেরার পর চার দিনের মাথায় গত মঙ্গলবার জকিগঞ্জের সুলতানপুর ইউনিয়নের কোনারবন্দ হাওর থেকে শফির লাশ উদ্ধার করা হয়। শফির মুখ আগুন দিয়ে পোড়ানো ও গলায় দড়ি প্যাঁচানোর ক্ষত ছিল। তিনি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরের হবিবপুর আশিঘর গ্রামের সমছু মিয়ার ছেলে। নগরীর চৌকিদেখী বাসা থেকে ৩০ জানুয়ারি তিনি জকিগঞ্জের উদ্দেশে বের হয়ে নিখোঁজ হন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই, ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশ ঘটনা তদন্ত করছে। পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার খালেদ উজ জামান সমকালকে জানিয়েছেন, একজন পরিদর্শক বিষয়টি তদন্ত করছেন। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই ক্লু মিলবে।
ইমরানকে হত্যার অভিযোগে তাঁর বাবা নজরুল ইসলাম আটজনের নাম উল্লেখ করে বুধবার রাতে মামলা করেন। পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এরা হলেন– লামনীগাঁওয়ের হেলাল আহমদ, কালা মিয়া ও রহিম আলী। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সফিকুল ইসলাম খান জানান, পূর্ববিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মামলার পর পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এ ছাড়া গত বুধবার কানাইঘাট উপজেলার মুক্তাপুর গ্রামে কলেজছাত্র ইসমাইল আহমদ হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত নিহতের চাচাতো ভাই ইসলাম উদ্দিন, তাঁর ভাই লোকমান হোসাইন ও বাবা জয়নাল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার সকালে বাড়ির জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ইসলাম উদ্দিন তাঁর চাচাতো ভাই ইসমাইল আহমদকে ছুরিকাঘাত করেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। ওইদিন রাতেই তাদের গ্রেপ্তার করার পর বৃহস্পতিবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম।
-সাইমুন










