নেত্রকোনা-৪ আসনে কৌশলগত সমীকরণ: কেন সরে দাঁড়ালেন তাহমিনা জামান শ্রাবণী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নেত্রকোনা-৪ (মদন–মোহনগঞ্জ–খালিয়াজুরী) আসনটি রাজনৈতিকভাবে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। এই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণীর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত। নির্ধারিত সময়ের শেষ পর্যায়ে এসে তাঁর এই সরে দাঁড়ানোকে নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সুস্পষ্ট কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদন জমা দেন তাহমিনা জামান শ্রাবণী। তাঁর পক্ষে আবেদনপত্র হস্তান্তর করেন প্রার্থিতার সমর্থনকারী মির্জা মুকুল। বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান।

দ্বৈত প্রার্থিতা ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত
রাজনৈতিক মহলের মতে, একই আসনে স্বামী-স্ত্রীর প্রার্থিতা থাকলে ভোট বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি হয়। এবারের নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে লুৎফুজ্জামান বাবরের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ায় তাহমিনা জামান শ্রাবণীর প্রার্থিতা বহাল থাকলে দলীয় ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই ঝুঁকি এড়াতেই শেষ পর্যন্ত তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

পূর্ব নির্বাচনের অভিজ্ঞতা
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তাহমিনা জামান শ্রাবণী উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে তাঁর উপস্থিতি স্থানীয় রাজনীতিতে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল। ফলে এবারের নির্বাচনে তাঁর সরে দাঁড়ানো স্বাভাবিকভাবেই ভোটের অঙ্কে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সমীকরণে কারা লাভবান
তাহমিনা জামান শ্রাবণী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ফলে বিএনপির প্রার্থী লুৎফুজ্জামান বাবরের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্ত হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোখলেছুর রহমান এবং সিপিবির প্রার্থী জলি তালুকদার নতুন করে ভোটের হিসাব কষতে শুরু করেছেন।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় রাজনীতিক ও ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তে ভোটের মাঠে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবর্তে প্রধান দুই বা তিনটি শক্তির মধ্যেই লড়াই সীমাবদ্ধ হতে পারে। অন্যদিকে কেউ কেউ এটিকে পারিবারিক সমঝোতার পাশাপাশি বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখছেন।

সব মিলিয়ে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ মুহূর্তে তাহমিনা জামান শ্রাবণীর এই সিদ্ধান্ত নেত্রকোনা-৪ আসনের নির্বাচনী রাজনীতিকে নতুন করে সাজিয়ে দিয়েছে। আগামী দিনে প্রচারণা ও ভোটের মাঠে এর প্রভাব কতটা পড়ে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল।

 

মহসিন মিয়া, নেত্রকোনা প্রতিনিধি