দেলোয়ার মহিন
মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগরের একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৩ সংসদীয় আসন। এক সময়ের ব্যস্ত ও প্রাণবন্ত এই জনপদ এখন আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, দিনের আলোতে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি আর রাতের আঁধারে খুনোখুনি— সবমিলিয়ে বাসিন্দাদের দিন কাটছে চরম নিরাপত্তাহীনতায়। বিশেষ করে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত এবং মাদকের অবাধ বিস্তার এই এলাকার সামাজিক কাঠামোকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
জনজীবনের এই স্থবিরতা কাটাতে এবং সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে এক সাহসী ও আধুনিক মহাপরিকল্পনা নিয়ে হাজির হয়েছেন এনডিএমের চেয়ারম্যান ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। সম্প্রতি দৈনিক আলোকিত স্বদেশের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি তার লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তার এই নির্বাচনী অঙ্গীকার কোনো সস্তা আশ্বাস নয় বরং এটি জনগণের সঙ্গে তার একটি ‘দায়িত্বের চুক্তি’।
নিরাপদ জনপদ গড়ার অঙ্গীকার: সাক্ষাৎকারের শুরুতেই ববি হাজ্জাজ এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকা-১৩ আসনের মানুষের কাছে এখন নিজ এলাকাই আতঙ্কের নাম। ঘর থেকে বের হওয়া প্রতিটি মানুষের কাছে দিনশেষে অক্ষত অবস্থায় প্রিয়জনের কাছে ফেরাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমার মূল লক্ষ্য— প্রতিটি পথ, প্রতিটি পদক্ষেপ নিরাপদ করা। আমি নির্বাচিত হয়ে আসলে এটি কেবল আমার ইশতেহারে থাকবে না, এটি হবে জনগণের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি অলিখিত চুক্তি।’
সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স: এলাকায় কিশোর গ্যাং, মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ববি হাজ্জাজ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘থানা প্রশাসন ও স্থানীয় কমিউনিটির সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। কেবল পুলিশের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুরক্ষা বলয় তৈরি করা হবে।’ তার নিরাপত্তা পরিকল্পনার প্রধান তিনটি স্তম্ভ হলো:
১. স্মার্ট সার্ভিল্যান্স: ছিনতাই ও অপরাধ কমাতে ব্যস্ত সড়ক এবং অলিগলিতে পর্যাপ্ত আধুনিক আলোকসজ্জা ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন। ২. দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী: যেকোনো অপরাধের খবর পাওয়ামাত্রই যাতে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেজন্য একটি বিশেষ রেসপন্স টিম বা কুইক রিঅ্যাকশন ফোর্স গঠন। ৩. অভিযোগ ও ফলোআপ: চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধে ২৪/৭ ডিজিটাল কমপ্লেন বক্স থাকবে, যেখানে অভিযোগের পর নিয়মিত ফলোআপ নিশ্চিত করা হবে।
নাগরিক সেবা ও টেকসই উন্নয়ন: কেবল নিরাপত্তা নয়, বরং ঢাকা-১৩ আসনকে একটি আধুনিক বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি একগুচ্ছ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘জনগণই ক্ষমতার উৎস। তাই প্রতি ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট দিনে আমি ‘ওপেন টাউনহল’ মিটিং করব। সেখানে আমি নিজে উপস্থিত থেকে সরাসরি জনগণের সমস্যা শুনব এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ নেব। অন্যদিকে, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নকেও বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে মোহাম্মদপুরের খাল ও লেকগুলো দখল ও দূষণমুক্ত করে একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করা।
এছাড়া, তরুণ ও শিক্ষা উন্নয়ন খাতে মেধাবী দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য ‘এডুকেশন ভাতা’ চালু করার ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে বিশেষ কারিগরি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন।
বিহারি ক্যাম্প ও সামাজিক সংহতি: দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত জেনেভা ক্যাম্পসহ অন্যান্য বিহারি ক্যাম্পের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বাসস্থান উন্নয়ন, স্যানিটেশন, শিশুদের মানসম্মত স্কুলিং এবং ক্যাম্পগুলোকে অপরাধ ও মাদকমুক্ত করতে স্থানীয় নেতৃত্বের অংশগ্রহণে বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি। এছাড়াও এলাকার আলেম-ওলামাদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেন।
সাক্ষাৎকারের শেষে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘কেবল আইন প্রয়োগ করে সমাজ বদলানো যায় না। চালক থেকে পথচারী, ধনী থেকে গরিব— সবার সম্মিলিত সচেতনতাই পারে একটি সুন্দর ও নিরাপদ ঢাকা-১৩ গড়ে তুলতে। আমি জনগণের দোয়া ও সমর্থন চাই। আমি বিশ্বাস করি, জনগণের ম্যান্ডেট পেলে এই আসনটি হবে পুরো ঢাকা শহরের জন্য একটি রোল মডেল।’
তিনি তার স্বপ্ন আর সংকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি কথা দিচ্ছি— জয়-পরাজয় যাই হোক, আমি আপনাদের পাশেই আছি। তবে আপনাদের ভোট পেলে প্রতিটি পথ, প্রতিটি পদক্ষেপ হবে নিরাপদ।’










