নওগাঁর পর চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াত আমিরের জনসমুদ্র

নওগাঁর বিশাল জনসভা শেষ করে আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত এই জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির ভাষণ দেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পুরো মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করেন:
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ: তিনি বলেন, “আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে সরকারি অফিসে কাজ পেতে কাউকে ঘুষ দিতে হবে না। দুর্নীতিবাজদের এ দেশে আর কোনো ঠাঁই হবে না।”
ইনসাফ ও ন্যায়বিচার: তিনি দেশের বিচার ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “আইনের চোখে সবাই সমান হবে। বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা হবে যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হয়।”
সীমান্ত ও কৃষি: চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা এবং কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আমরা ক্ষমতায় গেলে সুদমুক্ত কৃষিঋণ এবং বীজের সিন্ডিকেট ভেঙে দেব।”
নারী নিরাপত্তা: নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে জামায়াত আমিরের বক্তব্য ছিল জোরালো। তিনি বলেন, “আমাদের মায়েরা ও বোনেরা ঘরে-বাইরে কোথাও অনিরাপদ থাকবে না। তাদের সম্মান রক্ষা করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব।”
নওগাঁর মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জেও আমিরের আগমনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক মাঠের শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করেন। সমাবেশ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই শিবগঞ্জ, নাচোল ও গোমস্তাপুর থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে জড়ো হন। পুরো শহর ‘দাঁড়িপাল্লা’ ও জামায়াত আমিরের সমর্থনে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই জনসভা শেষ করে ডা. শফিকুর রহমান বিকেলেই রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখানে তিনি ১১ দলীয় জোটের যৌথ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
লামিয়া আক্তার