পানামাকে সতর্ক করল চীন: খাল-বন্দর নিয়ে রায়কে লজ্জাজনক বলল বেইজিং

ছবিঃ সংগৃহীত

পানামা খালের কৌশলগত দুটি বন্দর পরিচালনার চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিশ প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সিকি আচিসন। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়কে কেন্দ্র করে চীন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং পানামাকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে। খবর আলজাজিরা।

বুধবার এক বিবৃতিতে সিকে হাচিসন জানায়, তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পানামা পোর্টস কোম্পানির বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের রায়ের পর তারা আন্তর্জাতিক সালিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে পানামা সরকার চুক্তি বাতিল করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চীনের হংকং ও ম্যাকাও বিষয়ক দপ্তর (HKMAO) বলেছে, পানামার আদালতের রায় “অযৌক্তিক”, “লজ্জাজনক” এবং “করুণ”। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দপ্তরটি জানায়, এই রায়ে বাস্তবতা উপেক্ষা করা হয়েছে এবং হংকং ও চীনের কোম্পানিগুলোর বৈধ অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়,“ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থা রক্ষার জন্য চীনের কাছে পর্যাপ্ত উপায়, সক্ষমতা ও শক্তি রয়েছে।” পানামা যদি এই সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তবে তাকে “রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে চড়া মূল্য দিতে হবে” বলেও সতর্ক করা হয়।

গত সপ্তাহে পানামার সুপ্রিম কোর্ট সিকে হাচিসনের চুক্তি বাতিল করে দেয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, পানামা খাল কার্যত চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে খালটির নিয়ন্ত্রণ পুনর্দখল করতে পারে। ওয়াশিংটনের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

যদিও চীনের বিবৃতিতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে সেখানে বলা হয়েছে, “একটি দেশ অন্য দেশগুলোকে নিজেদের ইচ্ছা মানতে বাধ্য করতে দাদাগিরিমূলক কৌশল ব্যবহার করছে” এবং পানামা সেই আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে “স্বেচ্ছায় নতি স্বীকার করেছে”।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের চীনবিষয়ক বিশেষ কমিটির চেয়ারম্যান জন মুলেনার পানামার আদালতের সিদ্ধান্তকে “আমেরিকার জন্য বিজয়” বলে মন্তব্য করেছেন। পানামা সরকার এখনো চীনের হুঁশিয়ারি বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

হংকং স্টক এক্সচেঞ্জে পাঠানো এক বিবৃতিতে সিকে হাচিসন জানিয়েছে, তাদের পরিচালনা পর্ষদ পানামার সিদ্ধান্তের সঙ্গে “তীব্রভাবে দ্বিমত পোষণ করছে”। কোম্পানিটি জানায়, তারা আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করবে।

আদালতের রায়ের পর পানামা মেরিটাইম অথরিটি (AMP) ঘোষণা দিয়েছে, ডেনমার্কভিত্তিক জাহাজ পরিবহন কোম্পানি মার্স্ক সাময়িকভাবে ওই দুটি বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব নেবে।

পানামা খাল দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪০ শতাংশ কনটেইনার পণ্য পরিবহন হয় এবং এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ৫ শতাংশ বহন করে। খালটির নির্মাণ ব্যয় বহন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যা প্রায় এক শতাব্দী ধরে এটি পরিচালনার পর ১৯৯৯ সালে পানামার কাছে নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করে।

-বেলাল হোসেন