ব্যাংকক – থাইল্যান্ডে আগাম জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। রোববার দিনভর ভোটের পর এখন চলছে গণনা। এই নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছে ব্যাপক সংস্কারের পক্ষে থাকা পিপলস পার্টি এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল শিবির।খবর বিবিসির।
ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রাথমিক পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে নাও পারে। স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে (গ্রিনিচ সময় ১৫:০০) ফলাফলের স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, অনুতিন চার্নভিরাকুল প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকতে পারেন। গত কয়েক বছরে একের পর এক জোট সরকার ভেঙে পড়ায় থাইল্যান্ডে রাজনৈতিক অস্থিরতা তীব্র হয়েছে। মাত্র তিন বছরে দেশটি তিনজন প্রধানমন্ত্রী দেখেছে, যা আগাম নির্বাচনের পথ তৈরি করে।
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা
সংস্কারপন্থী পিপলস পার্টি, নেতা নাত্তাফং রুয়েংপানিয়াওয়ুতের নেতৃত্বে, বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-বড় ব্যবসা ও সেনাবাহিনীর ক্ষমতা সীমিত করা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।
অন্যদিকে, অনুতিন চার্নভিরাকুল তার ভুমজাইথাই (থাই প্রাইড) পার্টিকে রক্ষণশীলদের প্রধান শক্তি হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তিনি রাজতন্ত্র ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন এবং গত বছর কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতের পর দেশপ্রেমের আবেগকে কাজে লাগিয়েছেন। তৃতীয় শক্তি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে সিনাওয়াত্রা পরিবারের পিউ থাই পার্টি। অতীতে দলটি জনপ্রিয় হলেও, কম্বোডিয়া সংকট সামলাতে ব্যর্থতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার কারাবরণের কারণে এবারের নির্বাচনে দলটির সমর্থন কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গণতন্ত্র বনাম প্রতিষ্ঠিত শক্তি
২০২৩ সালের নির্বাচনে পিপলস পার্টির আগের সংস্করণ জয়ী হলেও, সামরিক-সমর্থিত সিনেট তাদের সরকার গঠন করতে দেয়নি এবং পরে আদালতের রায়ে দলটি বিলুপ্ত হয়। থাইল্যান্ডে অতীতেও একাধিক সংস্কারপন্থী দল ও প্রধানমন্ত্রীকে সাংবিধানিক আদালতের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পিপলস পার্টি যদি আগেরবারের ১৫১ আসনের চেয়ে বেশি পায়, তবে তাদের সরকার গঠনে বাধা দেওয়া কঠিন হতে পারে। তবে রক্ষণশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর হস্তক্ষেপের আশঙ্কা এখনো রয়ে গেছে।
অর্থনীতি ও সংবিধান সংস্কার
রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে থাইল্যান্ডের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে ভোটাররা ২০১৭ সালের সামরিক শাসনামলে প্রণীত সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত একটি গণভোটেও অংশ নিচ্ছেন। অনেক ভোটারের মতে, বর্তমান সংবিধান নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা সীমিত করে রেখেছে।
-বেলাল হোসেন










