আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে নির্বাচনী উত্তাপের সঙ্গে বেড়েছে নিরাপত্তা সতর্কতা। জেলা পুলিশের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলার মোট ২০৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৮৯টিকেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৮টি কেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ জানিয়েছেন, সাধারণ, ঝুঁকিপূর্ণ এবং অতি ঝুঁকিপূর্ণ-এই তিন শ্রেণিতে কেন্দ্রগুলোকে বিন্যাস করা হয়েছে। প্রার্থীর বাড়ির আশপাশের কেন্দ্র, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি কেন্দ্রগুলোকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ তালিকায় রাখা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সাধারণ কেন্দ্রের তুলনায় অধিক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া বিশেষায়িত ‘কে-নাইন’ ডগ স্কোয়াড এবং কুইক রেসপন্স টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
পাহাড়ি এলাকার দুর্গমতার কারণে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে যাতায়াত অত্যন্ত কঠিন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, দীঘিনালা উপজেলার নাড়াইছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার ফুত্যাছড়ি ও শুকনাছড়ি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের সামগ্রী এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পরিবহন করা হবে। এ ছাড়া বিজিবির ১০টি বেইজ ক্যাম্পের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী ২০টি ভোটকেন্দ্রে বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১১৪ জন। এই আসনে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্রসহ মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পার্বত্য এই জনপদে শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে পুলিশ ও বিজিবি’র পাশাপাশি র্যাব এবং সেনাবাহিনীর বিশেষ টহল কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জন্য বডি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।