অনিদ্রা বা ঘুম না হওয়ার সমস্যা এখন আর কোনো একক বয়স বা পেশার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কাজের চাপ, মানসিক দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, অনিয়মিত জীবনযাপন—সব মিলিয়ে অনেকেই রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না। নিয়মিত ওষুধ খাওয়া সাময়িক সমাধান দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। এই জায়গায় প্রাকৃতিক ও নিরাপদ সমাধান হিসেবে প্রাণায়াম খুব কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রাণায়াম মূলত শ্বাস-প্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রিত ব্যায়াম। শ্বাসের গতি, গভীরতা ও ছন্দ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এটি স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং শরীর-মনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে। অনিদ্রার মূল কারণগুলোর একটি হলো অতিরিক্ত মানসিক উত্তেজনা ও দুশ্চিন্তা। প্রাণায়াম সেই উত্তেজনা কমিয়ে মনকে ধীরে ধীরে প্রশান্ত অবস্থায় নিয়ে আসে, যা ঘুমের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
নিয়মিত প্রাণায়াম করলে শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমে আসে। একই সঙ্গে প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় হয়, যা শরীরকে বিশ্রামের সংকেত দেয়। ফলে হৃদস্পন্দন ধীর হয়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মস্তিষ্ক ঘুমের জন্য প্রস্তুত হয়। যারা রাতে বিছানায় শুয়ে নানা চিন্তায় অস্থির থাকেন, তাদের জন্য প্রাণায়াম বিশেষভাবে উপকারী।
ঘুমের আগে হালকা প্রাণায়াম করলে শ্বাস ধীরে ও গভীর হয়। এতে ফুসফুসে বেশি অক্সিজেন পৌঁছায় এবং মস্তিষ্ক স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নিয়মিত প্রাণায়ামের অভ্যাস গড়ে উঠলে ঘুম আসতে সময় কম লাগে এবং গভীর ঘুমের পরিমাণ বাড়ে। সকালে ঘুম ভাঙার পর শরীরও তুলনামূলকভাবে সতেজ থাকে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রাণায়াম মনোযোগ ও আত্মসচেতনতা বাড়ায়। নিজের শ্বাসের দিকে মনোযোগ দিলে নেতিবাচক চিন্তা ধীরে ধীরে দূরে সরে যায়। এতে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার মাত্রা কমে, যা অনিদ্রা দূর করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। নিয়মিত অভ্যাস করলে ঘুমের ও জাগরণের একটি স্বাভাবিক ছন্দ তৈরি হয়।
প্রাণায়াম থেকে ভালো ফল পেতে হলে নিয়মিত চর্চা জরুরি। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে, বিশেষ করে সন্ধ্যা বা ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিট প্রাণায়াম করলে ধীরে ধীরে অনিদ্রার সমস্যা কমতে শুরু করে। ওষুধের ওপর নির্ভর না করে প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ ঘুমের জন্য প্রাণায়াম হতে পারে একটি সহজ, নিরাপদ ও কার্যকর সমাধান।
-বিথী রানী মণ্ডল










