বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেত্রী ঊর্মিলা মাতন্ডকর ৫২ বছর পূর্ণ করলেন। শিশুশিল্পী হিসেবে ‘মাসুম’ ছবিতে তার ক্যারিয়ারের শুরু। এরপর রামগোপাল বর্মার নজরে পড়েন লাস্যময়ী ঊর্মিলা। ১৯৯৫ সালে আমির খান ও জ্যাকি শ্রফের সঙ্গে ‘রঙ্গিলা’ ছবিতে সাফল্যের পর তিনি বলিউডে নিজস্ব স্থান করে নেন। ‘জুদাই’, ‘সত্য’, ‘কৌন’, ‘পিঞ্জর’, ‘পেয়ার তুনে কেয়া কিয়া’— একের পর এক হিট ছবিতে ঊর্মিলা অভিনয় ও নাচ দু’ইয়েতেই দর্শকের মন জয় করেছিলেন।
২০১৪ সালের পরে হঠাৎই বলিউড থেকে ক্রমশ সরে যান ঊর্মিলা। তবে তার জনপ্রিয়তা হারাননি। পরে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০১৯ সালে কংগ্রেসের হয়ে লোকসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন, কিন্তু বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। এরপর কংগ্রেস ছেড়ে শিবসেনায় যোগ দেন এবং বর্তমানে শিবসেনার সক্রিয় সদস্য। রাজনীতিতে যোগদানের পাশাপাশি নারীদের উন্নয়নের জন্য সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত বার্তাও দেন তিনি।
সম্পত্তি বিবেচনায় ঊর্মিলা মাতন্ডকর একজন স্বচ্ছ ও সফল শিল্পী ও রাজনীতিবিদ। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের মূল্য ৬৮ দশমিক ২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৪০ দশমিক ৯৩ কোটি টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি ২৭ দশমিক ৩৪ কোটি টাকা। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে তিনটি ফ্ল্যাট অন্তর্ভুক্ত।
অভিনেত্রীর হাতে রয়েছে ১ দশমিক ২৭ কোটি টাকার একটি হিরের আংটি। গাড়ির সম্ভারও চোখে পড়ার মতো। তিনি ব্যবহার করেন মার্সিডিজ় বেন্জের পাশাপাশি দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য হুন্ডাই আই২০। আর্থিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঊর্মিলা সচেতন—বিভিন্ন বন্ড ও মিউচুয়াল ফান্ডে প্রায় ২৮ কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে তার।
বলিউডে যে ঊর্মিলা মাতন্ডকর একসময় ঝড় তুলেছিলেন, এখন তিনি রাজনীতির মঞ্চে নারী অধিকার ও সমাজসেবার জন্য কাজ করছেন। বলিউডের হিট ছবির সঙ্গে তার নাম জড়িত থাকলেও, তার বর্তমান পরিচয় রাজনীতিক ও সমাজসেবিক হিসেবেই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। সমাজমাধ্যমে তিনি নিয়মিত নারী উন্নয়ন ও শিক্ষার বার্তা দেন। তার এই কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে, শিল্পী হিসেবেই নয়, রাজনীতিক হিসেবেও তিনি সক্রিয় এবং সমাজে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। উর্মিলার জীবনযাত্রা, অভিনয় ও রাজনীতির সংমিশ্রণ তাকে অনন্য এক পরিচয় দিয়েছে। বলিউডের রঙিন ক্যারিয়ারের পর এখন তিনি সমাজ ও রাজনীতির ক্ষেত্রেও সমানভাবে চোখে পড়ছেন।
-বিথী রানী মণ্ডল










