মুন্সীগঞ্জে নির্মাণাধীন মার্কেট দখলে বাধা দেওয়ায় কুপিয়ে হত্যা, আহত ৮

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে নির্মাণাধীন একটি মার্কেট দখলের চেষ্টায় বাধা দিতে গেলে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মো. আলমগীর (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। এ সময় ৮ জন আহত হয়।

মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বালাসুর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহত আলমগীর বালাসুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি তার ভাই তমিজউদ্দীনের সঙ্গে যৌথভাবে বালাসুর বাজারে একটি মার্কেটের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

হামলায় আহতরা হলেন- তমিজ উদ্দিন (৬৫), জাহাঙ্গীর (৫৫), তারেক (৩৫), তানসেল (২২) তুষার (২৪), আব্দুর রহমানসহ (২৩) আরও কয়েকজন।

আহতদের ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, হান্নান হাজী গং, মানিক ডাকাত ও তাপস নামের কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমিতে কিছু ওয়ারিশের মালিকানা রয়েছে দাবি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। তবে মামলায় ব্যর্থ হন তারা। এরপর সম্প্রতি রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ওই জায়গা দখলের চেষ্টা চালানো হয়। সর্বশেষ মঙ্গলবার সকালে পুনরায় দেশীয় অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে নির্মাণাধীন মার্কেট দখলের চেষ্টা করলে আলমগীর বাধা দেন।

এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। বাধা দিতে গেলে আরও কয়েকজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় আলমগীরকে উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতাল গেটেও তাকে প্রতিপক্ষের লোকজন বেধড়ক মারধর করে।

শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক শংকর তান জানান, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে দুই গ্রুপেরই অনেক রোগী হাসপাতালে আসেন। এ সময় আলমগীর নামের রোগীর অবস্থা খুব বেশি আশঙ্কাজনক হলে আমরা তাকে মিডফোর্ডে রেফার করি। পরে মিডফোর্ড হাসপাতাল থেকে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়া বলেন, ঘটনাটি আমরা জানতে পেরেছি। জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযোগ পেয়েছি এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

-সাইমুন