আমদানি বাণিজ্যে স্বচ্ছতা ফেরাতে এনবিআর-এর ডিজিটাল পদক্ষেপ

বাণিজ্যিক ও বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্যের বিস্তারিত তথ্য এখন থেকে সাধারণ মানুষের নাগালে। ব্যবসায়ী, গবেষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করে এইচএসকোড ভিত্তিক সব আমদানির তথ্য উন্মুক্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এখন থেকে এনবিআর-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নিয়মিতভাবে এসব তথ্য প্রকাশ করা হবে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এনবিআর-এর জনসংযোগ দপ্তর থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আমদানি বাণিজ্যে স্বচ্ছতা ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে গত সপ্তাহে এনবিআর-এর ওয়েবসাইটে (nbr.gov.bd) ‘Publication’ পোর্টালের ‘Customs’ লিংকে ডিসেম্বর মাসের বাণিজ্যিক ও বন্ড সুবিধার তথ্য আপলোড করা হয়েছে। প্রকাশিত উপাত্তে প্রতিটি পণ্যের এইচএসকোড অনুযায়ী আমদানির পরিমাণ, ওজন এবং মূল্যের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
এনবিআর-এর এই উন্মুক্ত ডেটাবেজটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গবেষণায় একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। নতুন যারা ব্যবসা শুরু করতে চান, তারা সহজেই জানতে পারবেন বর্তমানে কোন পণ্য কী পরিমাণে এবং কোন মূল্যে দেশে আসছে। এর ফলে বাজারের চাহিদা ও আমদানির প্রবণতা বিশ্লেষণ করে সঠিক ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিষয়ে গবেষণার জন্য আগে সঠিক উপাত্ত পাওয়া ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। এখন এনবিআর-এর ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি এইচএসকোড ভিত্তিক নির্ভরযোগ্য ডেটা পাওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে দেশীয় বাজারের তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং মৌসুমি চাহিদার পরিবর্তন নিয়ে আরও নিবিড় গবেষণা করা সম্ভব হবে। বন্ডেড সুবিধার আওতায় যেসব শিল্প উপকরণ আমদানি করা হয়, সেগুলোর প্রবাহ এবং আমদানি নির্ভরতা মূল্যায়নে এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শিল্পের কাঁচামাল আমদানির দক্ষতা বাড়াতে এবং নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।
অর্থনৈতিক সংবাদ পরিবেশনার ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই ও প্রমাণের জন্য সাংবাদিকদের এখন আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। আমদানির পরিমাণ বা মূল্য সংক্রান্ত যেকোনো খবরের সত্যতা তারা দ্রুত ওয়েবসাইট থেকেই নিশ্চিত করতে পারবেন, যা সংবাদপত্রের বস্তুনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করবে।  সাধারণ ব্যবসায়ীরা এখন আমদানির পরিমাণ ও মূল্যের স্বচ্ছ ধারণা পাবেন, যা বাজার সিন্ডিকেট রোধে এবং পণ্যের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখবে।
এনবিআর-এর মতে, এই ব্যবস্থার ফলে বাণিজ্য কাঠামো আরও উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ হবে। ‘ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন’ বা বাণিজ্য সহজীকরণের অংশ হিসেবে প্রতি মাসের আমদানির তথ্য নিয়মিতভাবে ওয়েবসাইটে প্রকাশ অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
লামিয়া আক্তার