ভুল তথ্য ও গুজব গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন মোকাবিলায় লিটারেসি বাড়ানো, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ফ্যাক্ট চেকিং সেবা চালু এবং ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তারা।
সোমার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে “ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের যুগে গণমাধ্যমের ভূমিকা” শীর্ষক সেমিনারে এসব বক্তব্য উঠে আসে।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, সত্যের সঙ্গে মিথ্যা মিশিয়ে তথ্য প্রচার সমাজের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও দক্ষ ও পেশাজীবী মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জোবায়ের বাবু বলেন, গণমাধ্যমের ভূমিকা আগের মতো শক্তিশালী নেই। অনেকেই এই মাধ্যমকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, ফলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর হয়ে পড়ছে। ফুটেজ, ভিডিও ও অডিও টেম্পারিং এবং এআইভিত্তিক বিভ্রান্তিমূলক কনটেন্ট থেকে রক্ষা পেতে ফ্যাক্ট চেকিং সেবা বাড়াতে হবে, যেখানে সরকারের মূল ভূমিকা থাকা জরুরি।
সাংবাদিক ও বিশ্লেষক শাহেদ আলম বলেন, সাংবাদিকতা ও অ্যাক্টিভিজমের পার্থক্য স্পষ্ট রেখে সাংবাদিকতার নৈতিক ভিত্তি আরও জোরদার করতে হবে। তথ্য ও ছবি যাচাইসহ সত্যতা নিরূপণের প্রক্রিয়ায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুল হক বলেন, সত্য অনুসন্ধানে আরও মনোযোগী হতে হবে, যাতে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে না পারে। তিনি ভিজ্যুয়াল ও ডিজিটাল লিটারেসি বৃদ্ধির পাশাপাশি ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
ড. এস এম রেজওয়ান উল আলম বলেন, সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে মিডিয়া লিটারেসির গুরুত্ব অপরিসীম। এ ক্ষেত্রে সরকার, জনগণ ও সিভিল সোসাইটির সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক বুলবুল সিদ্দিকী। তিনি বলেন, আমরা এমন এক সময় পার করছি, যেখানে তথ্যের প্রাচুর্য থাকলেও সত্যের অভাব প্রকট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন শুধু বিভ্রান্তিই ছড়াচ্ছে না, বরং আস্থা দুর্বল করছে, সামাজিক বিভাজন বাড়াচ্ছে এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
-সাইমুন










