রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে এক দিনে শিশুসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার হাবাসপুর কলেজপাড়া ও বাজার এলাকায় এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন (ARV) না থাকায়।
আহত যারা
আহতরা হলেন- হানেফ শেখের মেয়ে হামিদা খাতুন (৭), শাহ প্রামাণিকের ছেলে তাওহিদ (৪), মালেকের মেয়ে আসমানী (৪), তৈয়বের ছেলে হৃদয় (২৭), সাইফুল ইসলামের ছেলে আতিয়ার (১২), আব্দুল আজিজের ছেলে মাহাবুব হাসান (৪৫) এবং তোফাজ্জেলের মেয়ে তানহা তাবাসুম (৫)। তারা সবাই হাবাসপুর কলেজপাড়া ও বাজার এলাকার বাসিন্দা।
আতঙ্কিত এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর বর্ণনা
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে হাবাসপুর কলেজপাড়া ও বাজার এলাকায় কয়েকটি কুকুর একের পর এক মানুষকে কামড়াতে থাকে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহত শিশু তানহা তাবাসুমের মা বলেন, “বিকেলে আমি মেয়ের সঙ্গে গেটের বাইরে দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎ একটা কুকুর দৌড়ে এসে আমার মেয়ের পায়ে কামড় দেয়। পরে শুনি এই কুকুরটি আরও কয়েকজনকে কামড়িয়েছে। মেয়েকে নিয়ে পাংশা হাসপাতালে গিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানে কোনো ভ্যাকসিন নেই। বাইরেও কিনতে পাওয়া যাচ্ছে না।”
আহত আরেক শিশু আসমানীর মামা বলেন, “আমি ভাগ্নিকে কোল থেকে নামিয়েছিলাম। হঠাৎ লাল রঙের একটি কুকুর ওর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কামড় দিয়ে পালিয়ে যায়। এলাকায় এমন একাধিক পাগলা কুকুর ঘুরছে।”
ভ্যাকসিন সংকট ও ইউএনও’র হস্তক্ষেপ
আহতদের দ্রুত পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না থাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে বিকল্প রেবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (RIG) ইনজেকশন সংগ্রহ করে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল হক বলেন, “আমি সন্ধ্যায় বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন থাকবে না, এটা খুবই দুঃখজনক।”
এ বিষয়ে রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ বলেন, “প্রায় দুই মাস ধরে হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই। আমরা একাধিকবার বরাদ্দ চেয়ে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি, কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। আবারও আবেদন করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, বেসরকারিভাবে ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিনি কয়েকটি ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে কথা বলেছেন।
এই ঘটনায় ভ্যাকসিন সংকটের কারণে আহতদের পরিবার চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।










