নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের মধ্যে পৃথক দুই আদেশে আরও ১২ কর্মচারীকে বদলি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
রোববার চট্টগ্রাম বন্দরের ‘চিফ পারসোনেল অফিসার এসব আদেশে সই করেন। আদেশে বদলিকৃত কর্মচারীদের সোমবার দিনের প্রথম ভাগে বদলিকৃত জায়গায় যোগদান করতে বলা হয়েছে।
এনসিটি ইজারার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরুর পর এ নিয়ে ১৬ জনকে বদলি করা হলো।
সবশেষ দুই আদেশের একটিতে সাতজনকে বদলি করা হয়। তারা হলেন— পরিবহন বিভাগের উচ্চ বহিঃসহকারী মোহাম্মদ শফিউদ্দিন ও রাশিদুল ইসলাম,
পরিকল্পনা বিভাগের স্টোনো টাইপিস্ট মো. জহিরুল ইসলাম, বিদ্যুৎ বিভাগের এসএস পেইন্টার হুমায়ুন কবির, প্রশাসন বিভাগের উচ্চমান সহকারী শাকিল রায়হান, যান্ত্রিক বিভাগের ইসিএম ড্রাইভার মানিক মিজি এবং প্রকৌশল বিভাগের মেসন মো. শামসু মিয়া।
আরেক আদেশে বদলি করা হয়— পরিবহন দপ্তরের উচ্চ বহিঃসহকারী আবদুল্লাহ আল মামুন, মাতারবাড়ি উন্নয়ন প্রকল্পের স্টেনো টাইপিস্ট খন্দকার মাসুদুজ্জামান, যান্ত্রিক বিভাগের ইসিএম ড্রাইভার মো. লিয়াকত আলী, আমিনুর রসূল বুলবুল এবং যান্ত্রিক বিভাগের খালাসি মো. রাব্বানীকে।
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তাদের ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও আইসিটি ও কমলাপুর আইসিডিতে বদলি করা হয়েছে। তাদের পদ একই থাকবে।
‘জরুরি দাপ্তরিক ও অপারেশনাল কাজে’ বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের বদলি করেছে বলে আদেশে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত গত শনিবারও বন্দর কর্তৃপক্ষ পানগাঁও আইসিটিতে বদলি করে আন্দোলনকারী চার কর্মচারীকে।
এনসিটি নিয়ে আন্দোলন করা বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর শ্রমিকদল নেতা হুমায়ুন কবীর বলেন, “বল প্রয়োগ করে কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করা যাবে না। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। আমরা অবিলম্বে এ অন্যায় বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।”
তবে বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলেন, নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ বদলি করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শনিবার থেকে দুই দিনের কর্মবিরতি শুরু হয়। সোমবারও থাকবে কর্মবিরতি।
-সাইমুন










