বিএনপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও নৈতিক বিচ্যুতির অভিযোগ তুলে দলীয় সব পদ-পদবি থেকে পদত্যাগ করেছেন তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ফেরদৌস আলম।
সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) সুনামগঞ্জ শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারের মিলনায়তনে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা এই ঘোষণা দেন। এ সময় তারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিতও দেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বর্তমানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীই সক্রিয় রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও ধর্মীয়
মূল্যবোধের দিক থেকে আপাতত জামায়াতে ইসলামীকে তারা তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করছেন। এ কারণে দলটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভবিষ্যতে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান তারা।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফেরদৌস আলম। তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রায় ২৫ বছর আগে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং দীর্ঘ ১৭ বছর মামলা-হামলা, জেল-জুলুম সহ্য করে দলীয় রাজনীতি করে এসেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হলেও, এরপর দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত নতুন বাংলাদেশের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি। ৫ আগস্টের পর তাহিরপুর উপজেলায় লুটপাট ও দুর্নীতি বেড়েছে এবং এতে বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আগের মতো এখনো জনগণ লুটপাটকারীদের নাম প্রকাশ্যে বলতে ভয় পাচ্ছে।
ফেরদৌস আলম আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সাফল্যকে বিএনপি কার্যত অস্বীকার করছে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে গৃহীত ঐকমত্যভিত্তিক প্রস্তাবের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সুনামগঞ্জ-১ আসনে দলীয় এমপি মনোনয়নের ক্ষেত্রেও ত্যাগী ও নিবেদিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। স্থানীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজি ও পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে যাদুকাটা এলাকায় ব্যাপকভাবে বালু লুট চলছে। নদীপথে চলাচলকারী নৌযান আটকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে এবং সীমান্তবর্তী চারাগাঁও, বাগলী ও বড়ছড়া তিনটি শুল্কস্টেশন দখল করে নিয়মিত চাঁদাবাজি চলছে। এতে হাওর এলাকার মৎস্যসম্পদ, বন ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং যাদের বিরুদ্ধে আগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তাদের অনেককেই আবার দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
ফেরদৌস আলম বলেন, বর্তমান বিএনপি জনগণের আকাক্সক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। তাই বিবেক ও দেশপ্রেমের তাড়না থেকেই তারা দলীয় সব পদ-পদবি ও বিএনপির রাজনীতি থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।