বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৩৭ হাজার কোটি টাকার (৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার) ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি করতে তড়িঘড়ি করছে। এই চুক্তি নির্বাচনের মাত্র ১০ দিনের আগে সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বোয়িংয়ের সিয়াটল সদর দফতরে শেষ মুহূর্তে ১০ শতাংশ ছাড় আদায়ের জন্য একটি জরুরি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সব ঠিক থাকলে নির্বাচনের আগে চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে, বিমান ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।
সরকারি ও বিমানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, আলোচনার গতি হঠাৎ বাড়িয়ে চলতি সপ্তাহে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বোয়িংয়ের চূড়ান্ত জবাব পাওয়া মাত্র তা প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. সাফিকুর রহমান বলেন, প্রস্তাব যাচাই-বাছাইয়ের পর বোর্ড অনুমোদনের মাধ্যমে চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বোয়িং থেকে বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ১৪টি বিমান কেনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ দিয়ে ২২টি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান। নতুন বছরে পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে রুট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। কলম্বো, বাহরাইন ও সিডনিতে নতুন রুটের অনুমোদন মিলেছে।
চুক্তির প্রস্তাবিত বিমানগুলোর মধ্যে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। শেষ মুহূর্তে ১০ শতাংশ ছাড়ের জন্য বোয়িংয়ের সিয়াটল সদর দফতরে চিঠি পাঠানো হলেও কর্মকর্তারা বলছেন, বোয়িং ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ ছাড় দিয়েছে, নতুন ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলেন, সরবরাহ ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে হওয়ায় বর্তমান সরকারের সময়ে এর সরাসরি সুফল পাওয়া যাবে না। ফলে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ঝুঁকি থাকছে। এছাড়া বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে; জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব বোর্ডে যুক্ত হয়েছেন।
বোর্ড অনুমোদনের পরই বোয়িংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হবে। যদিও চারটি বিমান লিজের মাধ্যমে তৎকালীন সংকট মেটানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও বোয়িং লিখিতভাবে কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি। ইউরোপের এয়ারবাসও বিক্রির চেষ্টা চালিয়েছে, তবে বোয়িংকে বেশি উপযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
বিমান বিশ্লেষক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, চুক্তি যত দ্রুত হয় তত ভালো, তবে তড়িঘড়ি করতে গিয়ে বিমানের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে দেখতে হবে।










