ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. রুবেল আহমেদ আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুই দফায় মোট ৯ দিনের রিমান্ড শেষে গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) আসামি রুবেলকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা জানান, রুবেল স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করা হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরবর্তীতে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা একদল দুষ্কৃতকারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলেও ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। এতে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদসহ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির নাম উল্লেখ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করে ভোটারদের মনে ভয় তৈরি করতেই এই সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
তবে ডিবির দেওয়া ওই অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি নারাজির আবেদন করেন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। সোমবার ৩ ফেব্রুয়ারি সিআইডিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
–লামিয়া আক্তার










