যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সরাসরি হামলায় যাওয়ার আগে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা মোকাবিলায় আগে আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা হচ্ছে। এ কারণে আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা (আকাশ থেকে আসা হামলা প্রতিহতকারী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা) এবং থাড (উচ্চমাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা) মোতায়েন করা হচ্ছে। জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব ও কাতারের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বসানো হচ্ছে।
ইতিমধ্যে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি বড় মার্কিন নৌবহর আরব সাগরে পৌঁছেছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, প্রেসিডেন্ট চাইলে সীমিত বিমান হামলা চালানো সম্ভব হলেও বড় ধরনের আক্রমণ হলে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। এতে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ঝুঁকিতে পড়বে। তাই পূর্ণ প্রস্তুতি ছাড়া হামলায় যেতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র।
এই অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সৌদি আরব ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করলেও তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না।
অন্যদিকে সামরিক চাপের পাশাপাশি কূটনৈতিক পথও খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানিও জানিয়েছেন, আলোচনার কাঠামোগত প্রস্তুতি এগোচ্ছে।
তবে এসব প্রস্তুতির মধ্যেই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে তা দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না—এই যুদ্ধ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে। খামেনির ভাষায়, ইরান যুদ্ধ শুরু করতে চায় না, কিন্তু হামলা হলে তার জবাব হবে কঠোর এবং ব্যাপক।
-সাইমুন










