কুমিল্লার দেবীদ্বারে একটি খাল থেকে গলিত মরদেহের হাড়-কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহটি পুরুষ না নারী- তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ধামতী ইউনিয়নের দক্ষিণখার বড়বাড়ি এলাকার পাশের খাল থেকে ওই গলিত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমান নামের এক কৃষক খাল থেকে গরুর খাবার হিসেবে কচুরিপানা তুলতে গিয়ে পানিতে ভাসমান গলিত মরদেহের মাথার খুলিসহ হাড়-কঙ্কাল দেখতে পান।
পরে তিনি স্থানীয়দেরকে বিষয়টি জানান। এরপর পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জাল ফেলে মরদেহটির হাড়-কঙ্কাল উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় তিন মাস আগে ওই এলাকার বড় বাড়ির মৃত আলী আকবর সরকারের দ্বিতীয় স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৭৫) নিখোঁজ হন।
নিখোঁজের পর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিখোঁজ সংবাদ প্রচার এবং মাইকিং করা হলেও এ ঘটনায় থানায় কোনো নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি।
নিখোঁজ ফিরোজা বেগমের সৎপুত্র চিরকুমার মো. জসিম উদ্দিন সরকার (৫৮) বলেন, আমার সৎমা প্রায় তিন মাস আগে নিখোঁজ হন। আজ যে মরদেহটি আমাদের বাড়ির পাশের খালে পাওয়া গেছে, সেটি আমার মায়ের কি না তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
মরদেহের অবস্থা এমন যে এটি পুরুষ না নারী- তাও বোঝা যাচ্ছে না।
তিনি জানান, তার বাবার প্রথম সংসারে তিন ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রয়েছে। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় সংসারে পাঁচ মেয়ে থাকলেও কোনো ছেলে সন্তান নেই। আমার সৎমা ফিরোজা বেগম মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং এর আগেও কয়েকবার নিখোঁজ হয়েছিলেন, পরে তাকে খুঁজে পাওয়া যেত।
নিখোঁজ ফিরোজার সৎপুত্র মহসীন সরকারের স্ত্রী রুবিনা বেগম জানান, আমার মানসিক প্রতিবন্ধী শাশুড়িকে অনেক সময় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হতো। আমার এক ননদও মানসিক প্রতিবন্ধী। শাশুড়ির এক ভাইও মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন, যিনি ৭-৮ বছর আগে মাধাইয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।
এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, স্থানীয়দের ভাষ্যমতে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তিন মাস আগে নিখোঁজ ফিরোজা বেগমের হতে পারে। তবে মরদেহটি অত্যন্ত গলিত হওয়ায় বয়স, লিঙ্গ কিংবা পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহে কোনো পোশাকও ছিল না।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংরক্ষণ করা হবে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-সাইমুন