গাজীপুরে কাপড় ব্যবসায়ী রানু বেগমকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় ছাত্রদল নেতা আশিক ইসলাম স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর আত্মগোপনে চলে যাওয়া স্বপনকে শনিবার রাতে ময়মনসিংহের ভালুকা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে গাজীপুর মহানগরের গাছা থানা পুলিশ।
জানা যায়, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার মাইজবাগ গ্রামের হিরন মিয়ার স্ত্রী রানু বেগম গাজীপুর মহানগরের পশ্চিম কলমেশ্বর এলাকায় ভাড়া থেকে স্থানীয় দুলাল মার্কেটে ‘রানী ফ্যাশন গ্যালারি’ নামের একটি কাপড়ের দোকানে ব্যবসা করতেন। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে রানুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, একই এলাকার মুদি দোকানি নজরুল ইসলাম ও তার ছেলে আশিক ইসলামের সঙ্গে লেনদেন নিয়ে কাপড় ব্যবসায়ী রানু বেগমের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে শনিবার সকাল আটটার দিকে রানুর সঙ্গে নজরুলের বাকবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে আশিক ক্ষিপ্ত হয়ে ধারাল ছুরি দিয়ে রানু বেগমের ওপর হামলা করেন।
এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। রানুকে বাঁচাতে তার ছেলে হৃদয় মিয়া ও ওসমান হোসেন এগিয়ে গেলে তাদেরও ছুরিকাঘাত করে আশিক পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে রানু বেগম মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহত রানুর ছেলে হৃদয় বাদী হয়ে শনিবার রাতেই গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের গাছা থানার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশিককে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় আশিকের বাবা নজরুলসহ ৩ জনকে আসামি করা হয়। পরে দিবাগত রাত দুইটার দিকে অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে আশিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, মামলার পরপরই আমরা আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামি। রাত ২টার দিকে ভালুকা থেকে গ্রেপ্তারের পর রোববার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
-সাইমুন









