ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় টাইগ্রে অঞ্চলে ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় এক শীর্ষ টাইগ্রায়ান কর্মকর্তা ও একজন মানবিক সহায়তা কর্মী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় সরকার বাহিনী ও টাইগ্রায়ান বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে এই হামলা নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
শনিবার টাইগ্রায়ান ওই কর্মকর্তা জানান, এন্তিচো ও গেনদেবতা এলাকার কাছে দুটি ইসুজু ট্রাকে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এলাকাদুটি একে অপরের থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তার দাবি, ইথিওপিয়ার ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স এই হামলা চালিয়েছে, যদিও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।
স্থানীয় এক মানবিক সহায়তা কর্মীও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা দু’জনই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিলেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
হামলার সময় ট্রাকগুলোতে কী বহন করা হচ্ছিল, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট নয়। তবে টিপিএলএফ-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ‘ডিমৎসি ওয়েয়ানে’ ফেসবুকে কিছু ছবি প্রকাশ করে দাবি করেছে, ট্রাকগুলোতে খাদ্য ও রান্নার সামগ্রী পরিবহন করা হচ্ছিল। অন্যদিকে সরকারপন্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা দাবি করেছেন, ট্রাকগুলোতে অস্ত্র ছিল।
উল্লেখ্য, ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইথিওপিয়ার জাতীয় বাহিনী ও টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) মধ্যে দুই বছরব্যাপী যুদ্ধে সরাসরি সহিংসতা, স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিপর্যয় ও দুর্ভিক্ষের কারণে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয় বলে গবেষকদের ধারণা।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে পশ্চিম টাইগ্রের বিতর্কিত ত্সেমলেত এলাকায় আঞ্চলিক ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। অঞ্চলটি প্রতিবেশী আমহারা অঞ্চলের বাহিনীর দাবিকৃত এলাকা হিসেবে পরিচিত।
২০২২ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধের অবসান হলেও টাইগ্রেতে আমহারা ও প্রতিবেশী দেশ ইরিত্রিয়ার সেনা উপস্থিতিকে ওই চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
এ অবস্থায় আফ্রিকান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহমুদ আলি ইউসুফ সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তির অর্জন রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
সূত্রঃ আল জাজিরা
বেলাল হোসেন/










