বয়স তাঁর কাছে সংখ্যা মাত্র। দাবার বোর্ডে বর্তমানে যারা তাঁর সঙ্গে খেলেন সবাই নাতি-নাতনির বয়সে। তাই তো নোশিন আঞ্জুম-জান্নাতুল ফেরদৌসরা রানী হামিদকে ‘নানি’ বলে সংবোধন করেন। বুড়ো বয়সেও দাবার বোর্ডে এখনও ‘কুইন’ রানী হামিদ। এই পদবি শুধু কথাতে নয়, ম্যাচের ফলেই ফুটে ওঠে। নারী দাবা লিগ ব্যক্তিগত লড়াইয়ে নয়, দলগত প্রতিযোগিতা।
তবে দাবার বোর্ডে লড়তে হয় একাই; যেখানে অন্য সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন ৮২ বছরের কিংবদন্তি এ নারী দাবাড়ু। তাঁর অসামান্য নৈপুণে নারী দাবা লিগে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই আসরে ৭ খেলায় ১৩ পয়েন্ট পেয়ে শিরোপা জয় করে দলটি। সমান ১৩ পয়েন্ট পেলেও গেম পয়েন্টে পিছিয়ে থাকায় রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
মহিলা আন্তর্জাতিক মাস্টার রানী হামিদ ছাড়াও বাংলাদেশ আনসারের হয়ে খেলেছেন মহিলা ক্যান্ডিডেট মাস্টার নুশরাত জাহান আলো, আন্তর্জাতিক মাস্টার শারমীন সুলতানা শিরিন, ফিদে মাস্টার জান্নাতুল ফেরদৌস, ক্যান্ডিডেট মাস্টার নীলাভা চৌধুরী ও ওমনিয়া বিনতে ইউসুফ লুবাবা। তবে দলকে শিরোপা জেতাতে অন্যদের চেয়ে বোর্ডে রানী হামিদ দেখিয়েছেন তাঁর মস্তিষ্কের খেল।
নিজের খেলা ম্যাচগুলোতে জয় ও ড্রয়ের মাধ্যমে দলকে এনে দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। সবাই যখন ধরে নিয়েছিল এই আসরে হয়তো বাংলাদেশ নৌবাহিনী চ্যাম্পিয়ন হবে, তখনই শেষ রাউন্ডে রানী হামিদ করেছেন বাজিমাত। তাঁর নৈপুণ্যে বাংলাদেশ আনসার ৪-০ গেম পয়েন্টে সাউথ পয়েন্ট স্পোর্টস ক্লাবকে হারায়। একই সঙ্গে নৌবাহিনী একই ব্যবধানে পরাজিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মহিলা দলকে।
শেষ রাউন্ডে জয় পাওয়ায় আনসার এবং নৌবাহিনী উভয় দলের ম্যাচ পয়েন্ট সমান হওয়ায় গেম পয়েন্টের ওপর ভিত্তি করে স্থান নির্ধারণ করা হয়। এতে ২৪ গেম পয়েন্ট পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় আনসার। অন্যদিকে, ২২ দশমিক ৫ গেম পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় নৌবাহিনীকে। ১০ পয়েন্ট নিয়ে লিগে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।
-সাইমুন










