রমজান আসার আগেই চড়া মুরগি-পোলাও চালের দাম

বেশ কয়েক মাস ধরে সহনীয় পর্যায়েই ছিল মুরগির বাজার। রোজার আগে এসে এ দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত দুই সপ্তাহে কেজিতে বেড়েছে প্রায় ২০ টাকা। বেড়েছে পোলাও চালের দামও। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এই সুগন্ধি চালের কেজিতে বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। তবে গত সপ্তাহে বেড়ে যাওয়া ছোলা ও অ্যাংকর ডালের দাম কমেছে। সবজির বাজারেও কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। গত বুধবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, রামপুরা, মহাখালী ও নাখালপাড়া বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দরে। যা সপ্তাহ দুয়েক আগে ছিল ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। একইভাবে দর বেড়েছে সোনালি জাতের মুরগিরও। এ জাতের মুরগি কিনতে ক্রেতাকে কেজিতে গুনতে হবে ২৭০ থেকে ৩০০ টাকা। যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা। মুরগির দাম বাড়লেও স্বাভাবিক রয়েছে ডিমের বাজার। ফার্মের বাদামি রঙের প্রতি ডজন ডিম কমবেশি ১১০ ও সাদা রঙের ডিমের ডজন ১০০ টাকায় কেনা যাচ্ছে। এ ছাড়া গরুর মাংসের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায়।

রোজা আসতে এখনো সপ্তাহ তিনেক বাকি। এরই মধ্যে পোলাও চালের দাম বেড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি বেড়েছে প্রায় ২০ টাকা। বাজারে খোলা পোলাওর চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩৮ থেকে ১৪০ টাকা দরে। প্যাকেটজাত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চালের দর বেড়েছে আরো বেশি। ব্র্যান্ডভেদে প্রতি কেজি চাল কিনতে ক্রেতাকে খরচ করতে হবে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। এ ছাড়া সরু বা মিনিকেট চালের দাম আগের মতোই চড়া। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। তবে মাঝারি ও মোটা চালের দর কিছুটা কমেছে। প্রতি কেজি মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৩ এবং মাঝারিমানের চালের কেজি কেনা যাচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকায়।

কারওয়ানবাজারের মুক্তা রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী শাহজাহান তালুকদার বলেন, এক মাস ধরে পোলাওর চালের বাজার চড়া। প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) বেড়েছে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। একইভাবে ব্র্যান্ডগুলো প্যাকেটজাত চালের দাম খুচরা পর্যায়ে বাড়িয়েছে কেজিতে ২০ টাকার মতো। তবে এক মাস আগের তুলনায় মোটা ও মাঝারি চালের কেজিতে দুই-তিন টাকা কমেছে।

১৫-২০ দিন ধরে ছোলাসহ বেশ কয়েকটি জাতের ডালের দাম বেড়েছে। তবে চলতি সপ্তাহে দাম কিছুটা কমে এসেছে। সপ্তাহ দুয়েক আগে ছোলার কেজি ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। মাঝে বেড়ে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় উঠলেও ফের আগের দরে নেমেছে। ছোলার ডালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা দরে। একইভাবে অ্যাংকর ডালের কেজিতে পাঁচ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা। বড় দানার মসুর ডালের দামও কমেছে কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি কেনা যাচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়।

মহাখালী কাঁচাবাজারের মাসুমা স্টোরের স্বত্বাধিকারী আল-আমীন বলেন, ছোলা-ডালের দাম রোজার আগেই যা বাড়ার বেড়ে যায়। এরপর কমতে থাকে। কারণ তখন বিক্রিও কমে যায়।

শীতের সবজির দর স্বাভাবিক রয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় দুই-একটির দরে কিছুটা কমেছে। বেশিরভাগ সবজির কেজি কেনা যাচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। গত সপ্তাহে নতুন আলুর কেজি ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা। গতকাল বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। এ ছাড়া মান ও জাতভেদে শিম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শালগম ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং বেগুন ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এসব সবজির কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেশি গুনতে হয়েছিল ভোক্তাকে। বরবটির দাম কিছুটা বেশি; প্রতি কেজি কিনতে গুনতে হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। গত সপ্তাহের তুলনায় টমেটোর দাম আরো কমেছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। আকারভেদে প্রতিটি ফুলকপি ৩০ থেকে ৪০ এবং বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় কেনা যাচ্ছে। মুলার কেজি কেনা যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।

ইলিশের বাজার ধারাবাহিকভাবেই চড়া। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে এক হাজার টাকায়। আকারভেদে রুই-কাতলার কেজি কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া তেলাপিয়া ও চাষের কই মাছের কেজি ২০০ থেকে ২৪০ টাকা এবং পাঙাশের কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় কেনা যাচ্ছে। তবে চিংড়ির দাম বেশি দেখা গেছে। আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০থেকে ৯০০ টাকা।

-সাইমুন