নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী পারদ এখন তুঙ্গে। আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মূল লড়াইটি হতে যাচ্ছে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং দল থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের মধ্যে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় প্রার্থী বনাম প্রভাবশালী বিদ্রোহী প্রার্থীর এই দ্বৈরথ আসনটির নির্বাচনী সমীকরণকে বেশ জটিল করে তুলেছে।
লড়াইয়ের কেন্দ্রে দুই হেভিওয়েট
আজহারুল ইসলাম মান্নান (বিএনপি): সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা। উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে মজবুত ভোটব্যাংক তাকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। মাঠ পর্যায়ে তার কর্মীদের সক্রিয়তাও চোখে পড়ার মতো।
মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন (স্বতন্ত্র): বিএনপির সাবেক এই প্রভাবশালী নেতা ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন। ২০০১ সালে শামীম ওসমানকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য হওয়ার রেকর্ড এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হিসেবে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা মান্নানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পিছিয়ে পড়া অন্যান্য পক্ষ:
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়লেও বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রচারণায় পিছিয়ে আছেন। অন্যদিকে, ২০ দলীয় জোটের আসন ভাগাভাগির সমীকরণে জামায়াতের শক্তিশালী প্রার্থী ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে জোটের প্রার্থী হিসেবে খেলাফত মজলিসের শিবলী মাঠে থাকলেও স্থানীয় জামায়াত কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তা তাকে দৌড়ে পিছিয়ে রেখেছে।
সাধারণ ভোটারদের ভাবনা:
সাধারণ ভোটারদের মতে, এই আসনে দলীয় প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ এবং স্থানীয় প্রভাবই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। জামায়াতের প্রার্থী না থাকায় লড়াই এখন দ্বিমুখী। শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক কৌশলের ওপরই নির্ভর করছে কার গলায় উঠবে বিজয়ের মালা।
মাহমুদ কাওসার
নারায়ণগঞ্জ।










