শেরপুরে নির্বাচনী সভায় সংঘর্ষ: জামায়াত নেতাকে ইট দিয়ে থেঁতলে হত্যার অভিযোগ

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্বাচনী অনুষ্ঠানে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান অভিযোগ করেছেন, রেজাউল করিমকে ইট দিয়ে থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এবং ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক ছিলেন।
বৃহস্পতিবার প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বুধবার সকালে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে একটি নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান চলাকালে মঞ্চের সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে সভামঞ্চের কয়েক শ চেয়ার ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এই দফায় অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
 সন্ধ্যায় ঝিনাইগাতী শহরে দ্বিতীয় দফায় দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাঁধে। প্রত্যক্ষদর্শী ও গজরিপা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুল মান্নান জানান, “বিএনপির নেতাকর্মীরা ধাওয়া দিলে রেজাউল করিম তাদের হাতে ধরা পড়েন। তখন তাকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে ও শরীর থেঁতলে দেওয়া হয়।” গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইগাতী ও পরে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে নয়টার দিকে তিনি মারা যান।
শেরপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক উপল হাসান জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে। অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল জানান, প্রশাসনের উপস্থিতিতেই অনাকাঙ্ক্ষিত এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে রেজাউল করিমের গ্রাম শ্রীবরদীর চাউলিয়ার গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও জনপ্রিয় এই শিক্ষকের জন্য কবর খোঁড়া হচ্ছে। পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ। স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুর রহমান বলেন, “রেজাউল খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। তার এমন মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না।” জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুতই মামলা করা হবে এবং তারা সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছেন।
লামিয়া আক্তার