মোবাইল ব্যবহার নিয়ে অভিমানে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আ ত্ম হ ত্যা

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে জৈতিমনি (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মুলাদী পৌর সদরের বেইলি ব্রিজ (নগর) এলাকার একটি বাসা থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত জৈতিমনি মুলাদী সরকারি মাহমুদজান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। সে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার নৈয়ারবাড়ী গ্রামের মৃত রিপন রায়ের মেয়ে। তার মা ঝুমা সরকার একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রাইভেট পড়া শেষে কিছুটা দেরিতে বাসায় ফেরে জৈতিমনি। রাত ৯টার দিকে পড়াশোনা না করে মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়টি নজরে এলে তার মা তাকে পড়তে বসতে বলেন। এ নিয়ে মায়ের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে জৈতিমনি নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে খাবারের জন্য ডাকতে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে মেয়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান তার মা।

নিহতের মা ঝুমা সরকার জানান, জৈতিমনি তার বাবাকে অত্যন্ত ভালোবাসত। বাবার মৃত্যুর পর থেকেই সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। মাঝে মাঝেই বাবার কাছে চলে যাওয়ার কথা বলত, যা নিয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন ছিল।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরাফাত জাহান চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মায়ের সঙ্গে অভিমান থেকেই ওই স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে।

এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার সকালে লাশ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

-ফাহিম আহমেদ, বরিশাল