বিশ্বকাপে খেলতে হলে এখনই কোমর বেঁধে নামতে হবে: তপু বর্মণ

বাংলাদেশ জাতীয় দল ও বসুন্ধরা কিংসের রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী তপু বর্মণ। ২০১৩ সালে লাল-সবুজের জার্সিতে অভিষেক হয় তার। ২০১৫ সালে কেরালায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৩-০ গোলের জয়ের প্রথম গোলটি ছিল তপুর। ঢাকায় অনুষ্ঠিত ২০১৮ সাফ ফুটবলে বাংলাদেশের জয়ের গল্পগুলোর মূলেই ছিলেন বসুন্ধরা কিংসের এ ডিফেন্ডার। সেন্টারব্যাকে খেললেও জাতীয় দলে তার গোলসংখ্যা ৬, সাফেই ৪। সম্প্রতি দৈনিক আলোকিত স্বদেশ পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার শামসুজ্জামান শামস তার মুখোমুখি হয়েছেন। একান্ত সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে দেশ-বিদেশের ফুটবলের অজানা অনেক কিছুই।

আলোকিত স্বদেশ: আর্জেন্টিনা কী বিশ্বকাপ শিরোপা অক্ষুণ্ন রাখতে পারবে?
তপু বর্মণ: ২০২২ সালের ফাইনালে ফান্সকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে আর্জেন্টিনা। এবারের দলটিও বেশ ব্যালান্স। নবীন-প্রবীণ সম্বনয়ে দলটি বেশ শক্তিশালী। মেসি দলে থাকা মানে দলের শক্তি বহুগুণে বেড়ে যাওয়া। দলে বেশ কয়েকজন বিশ্বমানের তরুণ খেলোয়াড় রয়েছে। যারা যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের ফলাফল ঘুরিয়ে দিতে পারে। সব দিক বিচার করে বলা যায় আর্জেন্টিনা শিরোপা অক্ষুণ্ন রাখতে পারবে।

আ.স্ব: আপনার মতে এবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলবে কোন চারটি দল।
তপু : ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি ও ব্রাজিল। এবার বিশ্বকাপের আয়োজক আমেরিকা,কানাডা ও মেক্সিকো। আমেরিকার মাটি থেকে বিশ্বকাপ জয়ের নজির রয়েছে ব্রাজিলের। তা ছাড়া এবারের ব্রাজিল দলটি তারুন্য নির্ভর। বিশ্বকাপে তাদের ভালো করার যথেস্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

আ.স্ব: বাংলাদেশকে এশিয়াকাপ এবং বিশ্বকাপে খেলতে হলে কী করতে হবে?
তপু: পরিকল্পনামাফিক এগোতে হবে। জেনারেশন টু জেনারেশন তৈরি করতে হবে। ঘরোয়া ফুটবলের মান ভালো করতে হবে। অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটাতে হবে। পাইপলাইন মজবুত করতে হবে। আমরা সব সময় বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখি। বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণ করতে হলেই এখন থেকে কোমর বেঁধে নামতে হবে।

আ.স্ব: জামাল ভূইঁয়া-হামজা চৌধুরীদের আগমন দেশের ফুটবলের জন্য কতটা কল্যাণ বয়ে আনছে?
তপু : প্রবাসী ফুটবলাররা আসার পর বাংলাদেশের ফুটবলে বেশ পরিবর্তন এসেছে। প্রথমে জামাল এসেছে। তার পর হামজা চৌধুরী, তারিক কাজী, কাজেম শাহ, ফাহামিদুল ইসলাম ও শমিত সোমসহ অনেকে জাতীয় দলে এসে খেলছে। ইংল্যান্ডে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ফুটবলার হামজা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রবাসী ফুটবলার আসায় ফুটবলের প্রতি সমর্থকদের আগ্রহ বেড়েছে। ম্যাচের দিন মাঠে প্রচুর দর্শক আসছে। সমর্থকরা ফুটবলকে ভালোবাসতে শুরু করেছে। তাদের আগমণ দেশের ফুটবলের জন্য অবশ্যই কল্যাণ বয়ে আনবে।

আ.স্ব: অনেকে বলেন, জাতীয় দলের কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার ভুল কৌশলে দল বার বার ডুবছে। আপনি কি মনে করেন?
তপু: সমর্থকরা অনেক কথাই বলবে। সবাইকে সবার ভালো নাও লাগতে পারে। কোচ হিসেবে ক্যাবরেরার কৌশল আমরা মাঠে বাস্তবায়ন করতে পারছি। জামাল ভূঁইয়াও বলেছে ক্যাবরেরা একজন ভালোমানের কোচ। খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার বুঝাপড়াটা বেশ ভালো। স্প্যানিশ কোচ ক্যাবরেরাকে দলে রাখা হবে কি না, তা ফেডারেশন সিদ্বান্ত নেবে। তার অধীনে আমরা তিন বছর খেলছি। সে অবশ্যই একজন ভালো কোচ।

আ.স্ব : অনেক ম্যাচে আমরা শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে পয়েন্ট হারিয়েছি। অনেকের ধারণা আমাদের রক্ষভাগ দুর্বল।
তপু : আমরা যারা রক্ষণভাগে খেলি দলের প্রয়োজনে আমাদের বল নিয়ে উপরে উঠে আসতে হয়। পাল্টা আক্রমণ করতে হলে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ওভারল্যাপ করতে হয়। শেষ মুহূর্তে গোল হজম অবশ্যই দৃষ্টিকটু। আমাদের আরো মানোযোগী হতে হবে। যে যার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালনে আরো সচেতন হতে হবে।

আ.স্ব: বাংলাদেশের জার্সি গায়ে আপনি অনেক ম্যাচ খেলেছেন,এর মধ্যে স্মরণীয় ম্যাচ কোনটি?
তপু: বাংলাদেশের জার্সি গায়ে অনেক ম্যাচ খেলেছি। এ ম্যাচগুলোর মধ্যে আমি আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং ভারত ম্যাচকে এগিয়ে রাখব। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে গোল করে দলকে এক পয়েন্ট এনে দিয়েছিলাম। সাফ চ্যাস্পিয়নশিপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের ৮০ মিনিটে গোল করে দলকে জিতিয়েছিলাম। আর এবার ঘরের মাঠে মোরসালিনের গোলে ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়েছি।

আ.স্ব: জাতীয় দলের জার্সি গায়ে আপনার গোল কয়টি?
তপু : বাংলাদেশের জার্সি গায়ে এ পর্যন্ত ৬টি গোল করেছি।

আ.স্ব: এবার লিগে আপনার দল বসুন্ধারা কিংস কি শিরোপা জিততে পারবে?
তপু : গতবার আমরা শিরোপা জিততে পারেনি। এবার লিগে বসুন্ধরা কিংস পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে রয়েছে। এবার শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আমি আমার টিম নিয়ে আশাবাদী। শিরোপা ঘরে তুলতে হলে আমাদের ম্যাচ বাই ম্যাচ জিততে হবে। আমাদের পরবর্তী ৯টি ম্যাচ খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আ.স্ব : ঘরোয়া ফুটবলে দর্শক খরা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন?
তপু : ফুটবলের প্রাণ হ”েছ দর্শক। মাঠে দর্শক খরা কোনো মতেই কাম্য নয়। মানিকগঞ্জে দুই ম্যাচ খেলেছি মাঠে প্রচুর দর্শক দেখেছি। কুমিল্লায়ও দর্শক হয়েছে। দুই দলের সমর্থকরা মাঠে থাকলে খেলা বেশ জমে। ঘরোয়া ফুটবল যেহেতু বিভিন্ন মাঠে হ”েছ তাই ম্যাচের দিন এবং সময় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে আরও ভালোভাবে দর্শকদের জানানো উচিত। খেলার বিষয়গুলো ও প্রচার ভালো হলে মাঠে দর্শক আসবে।

আ.স্ব : ঘরোয়া লিগে এখন যে সমস্ত বিদেশি খেলোয়াড় খেলছে তাদের মান কেমন?
তপু : নব্বই দশকে ইরাকের শামির শাকিল ইরানের নাসির হেজাজি নাইজেরিয়ার এমেকা খেলে গিয়েছে। তারা যেমন বিশ্বমানের ছিলেন এখন বসুন্ধর কিংস,আবাহনী ক্রীড়া চক্র, মোহামেডান স্পোটিং ও ফর্টিস এফসিতে যারা খেলছে তারাও বেশ উচুঁমানের। গতবার যারা বসুন্ধরায় খেলেছে তারা ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে খেলেছে। ছোট ক্লাবগুলোতে কিছু আফ্রিকান ফুটবলার খেলছে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ভালো মানের ফুটবলার রয়েছে।