বন্দিবিনিময়ের শেষ ধাপে ১৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) কাছে হস্তান্তর করেছে ইসরায়েল। এর বিনিময়ে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে উদ্ধার করা শেষ ইসরায়েলি বন্দির দেহাবশেষ গ্রহণ করে।
আল জাজিরার গাজা প্রতিনিধি হানি মাহমুদের বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না মরদেহগুলো খান ইউনুসের নাসের হাসপাতাল নাকি গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালে হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে বুধবার ইসরায়েল দক্ষিণ ইসরায়েলে ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালের হামলায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তা র্যান গিভিলির দাফন সম্পন্ন করে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানায়, সেদিন হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর হাতে আটক হওয়া ২৫১ জন বন্দির মধ্যে গিভিলির মরদেহই ছিল গাজায় থাকা শেষ দেহাবশেষ।
গিভিলির জানাজায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তাকে ‘ইসরায়েলের বীর’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
গাজা যুদ্ধ চলাকালে একাধিক যুদ্ধবিরতি, বন্দিবিনিময় চুক্তি ও সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে বন্দিদের ফেরত আনা হয়। সর্বশেষ বন্দিবিনিময়টি ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির আওতায় সম্পন্ন হয়।
যদিও গাজায় আটক সব ইসরায়েলি বন্দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তবে ইসরায়েলের কারাগারগুলোতে এখনো হাজারো ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন। তাদের অনেককে কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) জুলাই ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলে প্রায় ৯ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি ‘নিরাপত্তাজনিত বন্দি’ হিসেবে আটক রয়েছেন, যাদের অনেককে আটক রাখার কারণ জানানো হয়নি। প্রতিবেদনে আটক কেন্দ্রগুলোতে নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার অভিযোগও উঠে আসে।
এদিকে মানবাধিকার সংস্থা ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস–ইসরায়েল গত নভেম্বরে জানায়, ইসরায়েলি হেফাজতে অন্তত ৯৪ জন ফিলিস্তিনি বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর কারণ হিসেবে নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা, অপুষ্টি ও শারীরিক হামলার কথা উল্লেখ করা হয়। সংস্থাটি জানায়, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
এ ছাড়া আগের বন্দিবিনিময়ের সময় ফেরত আসা বেশ কিছু ফিলিস্তিনির মরদেহে নির্যাতন ও বিকৃতির চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে গাজা ও মিসরের মধ্যকার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় চালুর অপেক্ষায় রয়েছে ফিলিস্তিনিরা। মানবিক সহায়তা প্রবেশের জন্য এই সীমান্ত খুলে দেওয়ার ওপর ইসরায়েলের প্রতি ওয়াশিংটনের চাপ রয়েছে।
বন্দিবিনিময় সম্পন্ন হওয়ার পর গাজার রাজনৈতিক রূপান্তরের বিষয়েও চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, একটি প্রযুক্তিবিদ (টেকনোক্র্যাট) কমিটি গঠনের মাধ্যমে গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনিক দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম জানান, এই দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল সতর্ক করে বলেন, অবরোধের কারণে আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র সংকটে গাজা এক ‘অভূতপূর্ব মানবিক বিপর্যয়ের’ মুখোমুখি হয়েছে।
একই দিনে দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসে ইসরায়েলি গুলিতে নিহত দুই ফিলিস্তিনির দাফন সম্পন্ন হয় বলে স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
সূত্রঃ আল জাজিরা
বেলাল হোসেন/










