দানবীয় এক ভয়াবহ শীতকালীন ঝড় ও তীব্র তুষারপাতের কবলে যুক্তরাষ্ট্র। ২০ অঙ্গরাজ্যে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সতর্কতার আওতায় ৩৭ অঙ্গরাজ্য। বৈরী আবহাওয়ার জেরে বাতিল হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ফ্লাইট।
তীব্র শীত, বরফবৃষ্টি ও ভারী তুষারপাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বাতিল হচ্ছে একের পর এক ফ্লাইট। যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে হাড়কাঁপানো শীত, হিমশীতল বৃষ্টি আর ভারী তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শক্তিশালী এই শীতকালীন ঝড়ের প্রভাবে গতকাল সোমবার দেশটিতে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে, যা দেশটির বিমান যোগাযোগব্যবস্থাকে কার্যত অচল করে দিয়েছে।
উড়োজাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্যমতে, গতকাল বিকেল পর্যন্ত নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ১৯ শতাংশই বাতিল করা হয়েছে। উড়োজাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ার ডটকম জানিয়েছে, ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ৫ হাজার ২২০টি ফ্লাইট বাতিল ও সাড়ে ৬ হাজারের বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। এর আগে গত রোববার ১১ হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল, যা করোনা মহামারির পর এক দিনে সর্বোচ্চ ফ্লাইট বাতিলের রেকর্ড। আজ মঙ্গলবার আরও অন্তত ২৮৫টি ফ্লাইট আগাম বাতিল করা হয়েছে।
নিউ মেক্সিকো থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় এক ফুট পুরু তুষারের আস্তরণ জমেছে। এই দানবীয় ঝড়ে স্থবিরতা নেমে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে। এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতেও কিছু এলাকায় চরম শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
ফ্লাইট বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমেরিকান এয়ারলাইনস। গতকাল তাদের ১ হাজার ১৮০টি ফ্লাইট বাতিল ও ১ হাজার ১৩০টি বিলম্বিত হয়। এর বাইরে রিপাবলিক এয়ারওয়েজ, জেটব্লু ও ডেলটা এয়ারলাইনসও ব্যাপক শিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, হিমশীতল বৃষ্টি, তুষারপাত ও চারপাশ ঝাপসা হয়ে যাওয়ায় বোস্টন, নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন এলাকার প্রধান বিমানবন্দরগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিরিয়ামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল সর্বোচ্চ ৭১ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
আমেরিকান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তাদের ৯টি প্রধান কেন্দ্রের মধ্যে ৫টিই ঝড়ের কবলে পড়েছে। বিশেষ করে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দরে বরফ জমে যাওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তাদের কর্মীরা দিনরাত কাজ করছেন।
এদিকে বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এয়ারলাইনসগুলোর কাছে ক্রমাগত সাহায্য চেয়ে যাচ্ছেন। ইউনাইটেড এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তারা ধীরে ধীরে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। রোববারের তুলনায় গতকাল তাদের ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা অনেকটাই কমে এসেছে।
আর্থিক ক্ষতির দিক থেকেও এই ঝড় বড় আঘাত হানতে যাচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া ওয়েবসাইট আকুওয়েদার বলেছে, ২০২৫ সালের শুরুতে লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানলের পর এটিই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১০ হাজার ৫০০ থেকে ১১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে দাঁড়াতে পারে।
-মামুন








