ঠাকুরগাঁওয়ে রুহিয়ায় রঙিন ফুলকপি চাষে স্বপ্ন দেখছেন কৃষক

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় হলুদ রঙের  ফুলকপি সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। বেশি মুনাফার আশায় ও পুষ্টি চাহিদা মেটাতে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে রঙিন ফুলকপি চাষ করে সফলতার আশা করছেন রুহিয়া থানাধীন ২১ নং ঢোলারহাট ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের বিনোদ চন্দ্র রায় । মাত্র ২০ শতাংশ জমিতে ২ হাজর  চারা রোপণ করেন।

চারা রোপণ থেকে ফসল ওঠানো পর্যন্ত পরিচর্যা, জৈবসারসহ বর্তমান পর্যন্ত  মোট খরচ হয়েছে ৬ হাজার টাকা। চারা রোপণের ৫৫ দিনের মধ্যে জমি থেকে ফলন শুরু হয়েছে। আর মাত্র ৭-১০  দিনের মধ্যে  বাজারে বিক্রি করতে পারবে। খরচ বাদে তিনি  লাভের আশা করছেন  ৫০ হাজার টাকার মতো। প্রথম চাষেই কৃষক বিনোদ চন্দ্রর এমন সফলতা দেখে অন্য কৃষকেরাও এ ফুলকপি চাষে উৎসাহ পাচ্ছেন।

স্থানীয় বাজারেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বিনোদ চন্দ্র রায়ের রঙিন ফুলকপি। সাদা ফুলকপির পাশাপাশি বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এ রঙিন ফুলকপি। অনেকে আবার শখ বা আগ্রহের সঙ্গে কিনছেন এ সবজি। সবজি বিক্রেতা থেকে শুরু করে পাইকারি বিক্রেতারাও খুঁজছেন রঙিন ফুলকপি। ফলে এ ফুলকপি চাষাবাদ নিয়ে এখন রঙিন স্বপ্ন দেখছেন  কৃষকেরাও।

কৃষি বিভাগ বলছে, ভালো ফলন আর দাম পাওয়ায় রঙিন ফুলকপি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এ অঞ্চলের চাষিরা। রঙিন ফুলকপির সাফল্যে স্থানীয় কৃষি বিভাগও অনেক খুশি। আগামিতে জেলাজুড়ে এ ফসলের চাষাবাদ ছড়িয়ে দিতে কাজ করবে কৃষি বিভাগ।

কৃষক বিনোদ চন্দ্র  জানান, প্রথমদিকে এ ফুলকপি চাষাবাদ নিয়ে তিনি একটু শঙ্কিত ছিলেন। এ ফসল চাষে তার ধারণা ছিল না। ২১ নং ঢোলারহাট ইউনিয়ন উপ-সহকারী  কৃষি কর্মকর্তা জগদীশ শর্মার পরামর্শে এবং দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প, ঠাকুরগাঁও সদর  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের  সহযোগিতায়  প্রথম সাহস করে চারা রোপণ করেছিলেন। সল্প পরিমাণ  রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে চাষাবাদ করেছেন। জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করেছেন। সাদা ফুলকপির মতোই খরচ হলেও তুলনামূলক এ ফসলে জৈব সার বেশি প্রয়োগ করতে হয়েছে।

তিনি জানান,  হলুদ রঙের  ফুলকপির চাহিদা বাজারে  অনেক। দাম বেশি হলেও মানুষ কিনতে আগ্রহী। তিনি আরও জানান, আমার রঙিন ফুলকপি চাষে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। তাই আগামীতে বড় পরিসরে চাষাবাদের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি অন্যদেরও উৎসাহিত করবেন।রুহিয়া  বাজারের সবজি বিক্রেতা মামুন ও হাবিব  বলেন, ‘বাজারে সাদা ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে। তবে রঙিন ফুলকপি গড়ে ৬০ টাকা কেজি হিসাবে বিক্রি হয়।’

ঠাকুরগাঁও সদর  উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. নাসিরুল আলম  জানান, রঙিন ফুলকপি চাষে জৈব সার ব্যবহার করায় রাসায়নিক সারের ব্যবহার অনেকাংশে কম লাগে। রঙিন ফুলকপি সাধারণ ফুলকপির তুলনায় পুষ্টিগুণ বেশি থাকে। পুষ্টিগুণ আর ভিন্ন রঙের কারণে স্থানীয় বাজারে এর প্রচুর চাহিদা। এজন্য কৃষক দামও কিছুটা বেশি পাচ্ছেন। তাই আগামীতে এর প্রসার ঘটাতে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষককে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

আহসান হাবিব রুবেল, রুহিয়া (ঠাকুরগাঁও)