যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত রোববার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির সঙ্গে কথা বলেছেন। ফোনালাপে ইরাককে ইরানের প্রভাব থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আলজাজিরা জানিয়েছে রুবিও বলেন, ইরাক মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার মাপকাঠিতে একটি শক্তিশালী দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। ইরানের প্রভাবে পরিচালিত সরকার ইরাকের স্বার্থ অগ্রাহ্য করতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারিত্বও শক্তিশালী করতে পারবে না।
সম্প্রতি ইরাকে এক সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে নুরি আল-মালিকি আবার প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। আল-মালিকির রাজনৈতিক ইতিহাস জটিল; ২০০৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তাঁর শাসনামলে দেশের রাজনৈতিক বিভাজন বাড়ে এবং দেশ ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর উত্থান ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মুখোমুখি হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, উপসাগরের দিকে একটি অস্ত্রবাহী নৌবহর যাচ্ছে, যা ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়াচ্ছে। ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানান, যে কোনো আগ্রাসনের জবাবে তারা শক্তিশালীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে।
বিক্ষোভের উস্কানিদাতাদের কোনো ছাড় নয় : ইরান
ইরানে সাম্প্রতিক ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সন্ত্রাস, সশস্ত্র বাহিনীর ওপর হামলা ও ধ্বংসাত্মক কাজে যারা উস্কানি দিয়েছে, তাদের কোনো ছাড় দেবে না দেশটির ইসলামী প্রজাতন্ত্রী সরকার। প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন এ তথ্য।
রোববার ইরানি সংবাদমাধ্যম মিজান অনলাইনকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে প্রধান বিচারপতি মোহসেনি বলেন, জনগণ দাবি করছে যে (সরকারবিরোধী বিক্ষোভে) যারা দাঙ্গা, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতায় উস্কানি দিয়েছে, তাদের যত দ্রুত সম্ভব বিচার করা হোক এবং দোষী সাব্যস্ত হলে শাস্তি দেওয়া হোক। আমরা জনগণের দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
জীবনযাত্রার ব্যয় ও অসহনীয় মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিক্ষোভ শুরু হয় ইরানে। বিক্ষোভ দমন করতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট-মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে ইরান। সেই সঙ্গে পুলিশ-নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী। ব্যাপক দমনপীড়ন চালিয়ে বর্তমানে বিক্ষোভ-উত্তেজনা অনেকটাই প্রশমন করতে সক্ষম হয়েছে ইরানের সরকার। নিহতের সরকারি সংখ্যাও প্রকাশ করা হয়েছে। ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামী প্রজাতন্ত্র সরকারের তথ্য অনুসারে, বিক্ষোভে তিন হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। যদিও মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, বিক্ষোভে ছয় হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে।
‘খামেনি বাঙ্কারে লুকিয়ে নেই’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি কোনো বাঙ্কারে লুকিয়ে নেই, বরং তিনি সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন এবং নিয়মিত রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ভারতে নিযুক্ত ইরানের কনসাল জেনারেল সাইদ রেজা মোসায়েব মোতলাঘ সম্প্রতি এনডিটিভিকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো খামেনিকে নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেও তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন। ইরান কোনো বিদেশি শক্তিকে ভয় পায় না এবং যে কোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় তেহরান এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
-সাইমুন










