বিএনপি থেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হলেও কুমিল্লায় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমাবেশের মঞ্চে উঠে আসন পেয়েছেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনর দুইবারের সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। রোববার বিকেলে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী এলাকায় বিএনপি আয়োজিত মঞ্চে উঠেন সাক্কু। রাতে তারেক রহমান বক্তব্য দেওয়ার সময়েও সাক্কুকে মঞ্চে দেখা যায়।
রাত থেকেই সাক্কুর মঞ্চে বসে থাকার বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে আজ সোমবার সাক্কু সমকালকে বলেন, ‘আমি তো বিএনপিরই লোক। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার কখন হবে, এটা দলের হাই কমান্ডের বিষয়। তবে দলের সবুজ সংকেত পেয়েই তো মঞ্চে উঠেছি।’
২০২২ সালের ১৫ জুনের সিটি নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় ওই বছরের মে মাস থেকেই মনিরুল হক সাক্কু আজীবনের জন্য বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। তবে এবারের সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর থেকে তার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন উঠে। মনোনয়নপত্রও কেনেন। পরে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীকে সমর্থন জানিয়ে আর মনোনয়নপত্র জমা দেননি। এখন দলের প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষে কাজ করছেন। তাই দলীয় সূত্র বলছে, সাক্কুর দলে ফেরার বিষয়টি যেকোনো সময়ই দলের চিঠি আসতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই সাক্কু দলে ফিরছেন এমন গুঞ্জনের মাঝেই গত ২৬ অক্টোবর সকালে ঢাকার গুলশানে তিনি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেন। কুমিল্লায় ফিরে সাক্কু কুমিল্লা সদর আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া মনিরুল হক চৌধুরীর সঙ্গে প্রচারে অংশ নেন।
দলীয় সূত্র বলছে, তারেক রহমানের সমাবেশে সাক্কুর অংশগ্রহণের বিষয়ে সপ্তাহখানেক আগেই দলের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত আসে। এ বিষয়ে মনিরুল হক সাক্কু আজ সকালে সমকালকে বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শকে লালন করে আমি বিএনপির রাজনীতি করি। দল আমাকে বহিষ্কার করলেও আমি তো দল ছেড়ে যাইনি। আজ দলের টানে দলের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের সমাবেশে যাই। বহিষ্কার আদেশ নিয়ে আমার কোনো কথা নেই। দলের হাইকমান্ড বিষয়টি দেখছে।
কুমিল্লা ৬ (সদর ও সদর দক্ষিণ) আসনের বিএনপির প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, এ নির্বাচনে সাক্কু স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারতেন। কিন্তু তিনি দল থেকে আগে বহিষ্কার হলেও এখনো দলকে ভালবাসেন। তাই এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হননি। এটা দলের জন্য তার অনেক বড় ত্যাগ। তাই সাক্কুর দলে ফেরার আনুষ্ঠানিক চিঠি সময় মতো ইনশাল্লাহ আসবে।
মনিরুল হক সাক্কু বিএনপি থেকে অব্যাহতি নিয়ে ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আফজল খানকে হারিয়ে নাগরিক কমিটির ব্যানারে মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ তিনি বিএনপির থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে আফজল খানের কন্যা নৌকার প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন। তবে ২০২২ সালের ১৫ জুনের সিটি নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় ওই বছরের মে মাস থেকেই তিনি আজীবনের জন্য বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। ওই নির্বাচনে বিজয়ী হন নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত। ২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর রিফাতের মৃত্যুর পর ২০২৪ সালের ৯ মার্চ কুমিল্লা সিটির উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র পদে সাক্কু নির্বাচনে অংশ নেন। ওই নির্বাচনে বিজয়ী হন সদর আসনের তৎকালীন এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিনের মেয়ে ডা. তাহসিন বাহার সূচনা।
-সাইমুন










