সুন্দরবনের শুঁটকিপল্লিতে মাছের তীব্র সংকট ও জলদস্যুদের দৌরাত্ম্যের কারণে মাচাগুলো বর্তমানে শূন্য। এ কারণে চলতি মৌসুমে ৭ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। মৌসুমটি ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও এখনই অধিকাংশ মাচায় মাছ নেই।
সরেজমিনে জানা গেছে, গত ২৬ অক্টোবর থেকে দুবলার চর, আলোরকোল, অফিসকেল্লা, নারিকেলবাড়িয়া ও শেলার চরে চার মাসব্যাপী শুঁটকি মৌসুম শুরু হয়। বন বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, এই মৌসুমে ৭ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করার লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। গত মৌসুমে আদায় হয়েছিল ৬ কোটি টাকা। জেলেদের থাকার জন্য ৯০০টি ঘর, ৮০টি দোকান এবং ১০০টি ডিপো অনুমোদন দেওয়া হলেও এখন জেলেদের উপস্থিতি কম।
জেলে ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, বঙ্গোপসাগরে মাছের অভাব ও দস্যুদের উৎপাতই সংকটের মূল কারণ। শেলার চরের জেলে মো. সাব্বির বলেন, চার দশকের অভিজ্ঞতায় এমন সংকট তিনি দেখেননি। শ্যামনগর জেলে সমিতির সভাপতি মো. সোহারাফ হোসেন জানান, দস্যুরা জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করছে। সাগরে নামলেই তেলের খরচও উঠছে না, ফলে মহাজন ও জেলেরা ঋণের বোঝা নিয়ে বিপদে পড়েছেন।
দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, মৌসুমের শুরুতে পরিস্থিতি ভালো ছিল, কিন্তু হঠাৎ মাছের অভাব ও দস্যুদের হামলার কারণে লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলেরা। সুন্দরবনের খালে মাছ ধরতে গেলে দস্যু বাহিনীর ধাওয়ার শিকার হতে হচ্ছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিলটন রায় নিশ্চিত করেছেন, পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি শিল্প বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।
মোঃ আব্দুস সালাম, সাতক্ষীরা/










