সম্প্রতি সংগঠিত অগ্নিসংযোগ এবং জানমাল ধ্বংসের সব কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে সব প্রকার সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃঢ়তার সঙ্গে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। আজ শুক্রবার ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং দৃঢ়ভাবে মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছে।
সম্প্রতি জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির সংগঠক এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি-র মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিরতা তৈরি হলে সরকার এই বিবৃতি প্রদান করে।
সরকার সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন, অগ্নিসংযোগ এবং সরকারি-বেসরকারি জানমাল ধ্বংসের ঘটনার দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানিয়েছে।
সম্প্রতি ‘দ্য ডেইলি স্টার’, ‘প্রথম আলো’ ও ‘নিউজ এজ’-এর সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সরকার সংহতি প্রকাশ করেছে এবং একে “সত্যের ওপর হামলা” হিসেবে অভিহিত করে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।ময়মনসিংহে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরকার বলেছে যে, নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের নৃশংসতার কোনো স্থান নেই।বিবৃতিতে নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে যাতে তারা মুষ্টিমেয় কিছু বিচ্ছিন্ন উগ্র গোষ্ঠীর উসকানিতে পা না দেন
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক ভাষণে উল্লেখ করেছেন যে, সামনে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে; এই রূপান্তরের সময়কে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বিবৃতিতে সরকার বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সব নাগরিককে আহ্বান জানানো হচ্ছে—কয়েকজন বিচ্ছিন্ন উগ্র গোষ্ঠীর দ্বারা সংঘটিত সব প্রকার সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃঢ়তার সঙ্গে সতর্ক থাকুন।
আমরা সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন, অগ্নিসংযোগ এবং জানমাল ধ্বংসের সব কর্মকাণ্ডকে দৃঢ়ভাবে ও দ্ব্যর্থহীনভাবে নিন্দা জানাই।এতে আরো বলা হয়, দেশের ইতিহাসের এই সংকটময় সময়ে আমরা একটি ঐতিহাসিক গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছি। যারা বিশৃঙ্খলাকে পুঁজি হিসেবে নেয় এবং শান্তির পথকে উপেক্ষা করে—এমন অল্প কয়েকজনের কারণে এই অগ্রযাত্রা আমরা কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দিতে পারি না এবং দেব না।অন্তর্বর্তী সরকার আরো জানিয়েছে, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট কেবল রাজনৈতিক অনুশীলন নয়; এগুলো একটি গুরুতর জাতীয় অঙ্গীকার।
এই অঙ্গীকার অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে সেই স্বপ্নের সঙ্গে, যার জন্য শহীদ শরীফ ওসমান হাদি তার জীবন উৎসর্গ করেছেন। তার আত্মত্যাগ ও স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে হলে সংযম, দায়িত্বশীলতা এবং ঘৃণা প্রত্যাখ্যানের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার প্রয়োজন।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা মানেই সত্যের ওপর হামলা। আমরা আপনাদের পূর্ণ ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিচ্ছি।
ময়মনসিংহে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সরকার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের সহিংসতার কোনো স্থান নেই। এই নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে সরকারের বিবৃতিতে বলা জয়েছে, এই সংকটময় মুহূর্তে আমরা প্রত্যেক নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানাই—সহিংসতা, উসকানি ও ঘৃণাকে প্রত্যাখ্যান ও প্রতিরোধের মাধ্যমে শহীদ হাদির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করুন।মামুন