আদানি পাওয়ারের সঙ্গে সম্পাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য পেয়েছে সরকারি পর্যালোচনা কমিটি। এই চুক্তিটি বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী উল্লেখ করে তা বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে সিঙ্গাপুরের সালিশি আদালতে (Arbitration Court) যাওয়ার জোরালো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সদস্যরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন।
কমিটির সদস্য ও ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক মোশতাক হোসেন খান জানান, চুক্তির সঙ্গে জড়িত অন্তত সাত-আটজন ব্যক্তির কয়েক মিলিয়ন ডলারের অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। লন্ডনের বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দুর্নীতি মামলায় এমন অকাট্য প্রমাণ সচরাচর দেখা যায় না। অভিযুক্তদের ট্রাভেল ডকুমেন্টসহ যাবতীয় তথ্য ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) দেওয়া হয়েছে। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত কোনো হিসাবে লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে কমিটি জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, অন্যান্য উৎস থেকে কেনা বিদ্যুতের তুলনায় আদানির বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ৪-৫ সেন্ট বেশি।
মূল্য বৈষম্য: যেখানে ভারতের গ্রিড থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুতের দাম ৪.৮ সেন্ট, সেখানে আদানির দাম ধরা হয়েছিল ৬.৮ সেন্ট। যা ২০২৫ সালে বেড়ে ১৪.৮৭ সেন্টে দাঁড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশকে ঝুঁকি: ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে আদানির কোনো ক্ষতি হলে তার দায়ভারও বহন করতে হবে বাংলাদেশকে। এছাড়া মাসিক ১.২৫ শতাংশ চড়া সুদে ডলারে অর্থ পরিশোধের শর্তকেও চরম ঝুঁকিপূর্ণ বলছে কমিটি।
অধ্যাপক মোশতাক হোসেন আরও বলেন, “অনিয়মের তথ্য আদানিকে জানিয়ে দ্রুত তাদের ব্যাখ্যা চাওয়া উচিত। এরপর দেরি না করে সিঙ্গাপুরে সালিশি মামলা করতে হবে। বিলম্ব করলে আইনিভাবে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।”
এদিকে আদানি পাওয়ার এক বার্তায় দাবি করেছে, তারা এই প্রতিবেদনের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বা তথ্য পায়নি। বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার ১০ শতাংশ পূরণ করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তারা বড় অঙ্কের বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানিয়েছে, অন্যথায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আভাস দিয়েছে তারা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের এই জাতীয় কমিটি গঠন করেছিল বর্তমান সরকার। ২০ জানুয়ারি তারা মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
–লামিয়া আক্তার










