নারায়ণগঞ্জে সাড়ে ৬ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সারাদেশে ভোট গ্রহন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে। আজ রোববার থেকে নারায়নগঞ্জ সদর উপজেলায় ভোটগ্রহন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষন দেয়া শুরু হয়েছে। সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জন ভোটগ্রহন কর্মকর্তা এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছেন।

জেলা পরিষদের অদূরে সস্তাপুরে সদর উপজেলা কার্যালয় সংলগ্ন কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ প্রশিক্ষন দিচ্ছেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।

আজ দুপুরে কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ প্রশিক্ষন কার্যক্রম পরিদর্শন করতে গিয়ে এক আনন্দঘন পরিবেশ দেখ যায়।সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষক , ব্যাংক কর্মকর্তা , এনজিও কর্মকর্তা এবং কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকগনের মধ্য থেকে বাছাই করে প্রশিক্ষনের জন্য ডাকা হয়েছে।

যারা ভোট গ্রহন কার্যক্রমের ব্যাপারে প্রশিক্ষন গ্রহন করছেন তাদের মধ্য থেকে প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্যানেল তৈরি করা হয়েছে।

প্রশিক্ষন আজ রোববার থেকে শুরু হয়ে চলবে ২৯ তারিখ পর্যন্ত। প্রতিদিন প্রতি শিফটে প্রায় ৮০০ জন করে, প্রতিদিন প্রায় ১৬০০ জন কে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
কয়েকজন প্রশিক্ষনার্থী এ প্রতিনিধিকে জানান, তারা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে প্রশিক্ষন নিচ্ছেন। তারা জানান, আগামী সাধারণ নির্বাচনে ভোট গ্রহনের জন্য নির্বাচিত হয়ে তারা সন্মানিত বোধ করছেন।তাদের অনেকে এর আগেও ভোটগ্রহন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানান।

উপজেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা জানান, ভোটটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত করার লক্ষ্যে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে মূলত নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে- ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য: প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারদের নির্দিষ্ট ভূমিকা। ব্যালট ও সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স সিল করা এবং নির্বাচনী সরঞ্জাম নিরাপদে রাখা।ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয় সাধন। ভোট গণনা শেষে সঠিক উপায়ে ফলাফল বিবরণী প্রস্তুত করা।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়াই এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য। প্রশিক্ষণে কর্মকর্তাদের যেকোনো জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রকার অনিয়ম বা অবহেলার সুযোগ নেই বলেও কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে সাধারণত বড় নির্বাচনের আগে সদর উপজেলার মতো জনবহুল এলাকায় কয়েক হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্রয়োজন হয়। এই সংখ্যাটি জেলা বা উপজেলা নির্বাচন অফিসের বরাদ্দকৃত প্যানেল তালিকার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
-সাইমুন