গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই এখনও শেষ হয়নি: সুজন সম্পাদক

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটলেও, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই এখনও শেষ হয়নি। নির্বাচন ব্যবস্থার পরিশুদ্ধকরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে একটি সাম্যভিত্তিক ও ন্যায়বিচারপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা।

রোববার সিলেটে ‘গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ বিষয়ে বিভাগীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথা বলেন এসব। নগরীর একটি হোটেলে এ আয়োজন করা হয়।

ড. বদিউল আলম বলেন, আমরা মনে করি, একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতান্ত্রিক উত্তরণের পূর্বশর্ত। কিন্তু তা এককভাবে যথেষ্ট নয়। গণতন্ত্রকে টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে গভীর আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।

বক্তব্যে নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রধান সাত প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করেন তিনি। সেগুলো হলো– নির্বাচনী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে দুর্বৃত্তায়ন, টাকার অশুভ প্রভাব, নির্বাচন কমিশনের অকার্যকারিতা, নাগরিক সমাজের নিষ্ক্রিয়তা, নির্বাচনকালীন সরকারের পক্ষপাতদুষ্টতা ও ক্ষমতার অতিমাত্রায় কেন্দ্রীকরণ।

সুজন সম্পাদক বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় প্রমাণ হয়েছে, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এ জন্য নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ‘ফাউন্ডেশনাল ইলেকশন’ উল্লেখ করে বলেন, এ নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু সরকার পরিবর্তন নয়; বরং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

ড. বদিউল আলম আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী, স্বাধীন ও দায়বদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং দুর্বৃত্তদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

সুজনের সিলেটের সভাপতি শিরিন আক্তারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের পরিচালনায় সংলাপে সংগঠনটির সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নেতারা বক্তব্য দেন।

-সাইমুন